![]()
দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি টেক্সটাইল খাতকে আরও এগিয়ে নিতে গবেষণা, উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শীর্ষ অবস্থানে নিতে দক্ষ টেক্সটাইল প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরির কোনো বিকল্প নেই।
আজ বুধবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস (বুটেক্স)-এর নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বুটেক্সে ভর্তি হওয়া কোনোভাবেই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ না পাওয়ার বিকল্প নয়। বরং এখানকার শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের শিল্প, গবেষণা ও প্রশাসনে নেতৃত্ব দেবেন।
তিনি জানান, চলতি বছর বুটেক্সের প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বিভিন্ন ক্যাডারে—বিশেষ করে প্রশাসন, পররাষ্ট্র ও পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরাও দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সফলতার পরিচয় দিচ্ছেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা পোশাক গর্বের বিষয় হলেও দেশের বাজারেও আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে হবে। এজন্য উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নের নেতৃত্ব তাদেরই দিতে হবে।
ড. মিলন বলেন, টেক্সটাইল প্রকৌশল একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ক্ষেত্র। তাই আধুনিক গবেষণাগার, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালিত ল্যাব স্থাপন এখন সময়ের দাবি। গবেষণার মানোন্নয়নে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অধিকতর বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। দেশের বৃহৎ জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলে সরকার নতুন ভবন নির্মাণ করবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। বর্তমানে বছরে প্রায় ৬৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা বিবেচনায় ভবিষ্যতে আসনসংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের টেক্সটাইল শিল্প ও বায়িং হাউসগুলোতে বিদেশি, বিশেষ করে ভারতীয় ও শ্রীলঙ্কান নাগরিকরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন। অথচ বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা মেধা ও দক্ষতায় কোনো অংশে পিছিয়ে নন। তাই দেশের শিল্পখাতে দেশীয় দক্ষ জনশক্তিকে নেতৃত্বে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সরকার প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই দক্ষ ও আধুনিক নাগরিক গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, ইউনিফর্ম ও খেলাধুলাভিত্তিক আনন্দময় শিক্ষা চালুর পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৭ সালে পরিমার্জিত এবং ২০২৮ সালে নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় সেশনজট নিরসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. মিলন বলেন, এসএসসি ১০ বছর, এইচএসসি দুই বছর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক চার বছরের মধ্যে সম্পন্ন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হলে দেশের জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার দুটি বিশেষায়িত সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টেক্সটাইল শিল্পকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে। শুধু চাকরির চিন্তা নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে।
বুটেক্সের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দের আবেদন সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এছাড়া টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য পৃথক বিসিএস ক্যাডার গঠনের দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলসের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পাঠকের মন্তব্য