ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ আটকালো মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত ৬-৩ ভোটের রায়ে আদালত জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রায়ে সুপ্রিম কোর্ট উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের অধিকার সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে সুরক্ষিত। ফলে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই অধিকার সীমিত করার সুযোগ নেই।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এমন একটি আইনগত অধিকার, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি যে দেশে জন্মগ্রহণ করে, সেই দেশের নাগরিকত্ব লাভ করে। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে এই সাংবিধানিক অধিকার কার্যকর রয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাখ্যা ১২৮ বছর আগে দেওয়া আদালতের একটি ঐতিহাসিক রায়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সেই রায়ের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তবে রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট কাভানাফ মূল রায়ের সঙ্গে একমত হলেও রায়ের কিছু অংশে পৃথক মতামত দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী অভিবাসী বা অস্থায়ী বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী নয়। তাদের যুক্তি ছিল, ১৮৯৮ সালের ঐতিহাসিক রায়ের প্রেক্ষাপট ছিল স্থায়ীভাবে বসবাসকারী অভিভাবকদের সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে ‘স্থায়ী বসবাস’ সংক্রান্ত কোনো শর্ত উল্লেখ নেই। ফলে ওই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার সাংবিধানিক সুযোগ নেই।
এই রায়ের ফলে আপাতত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ কার্যকর করা যাবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের নাগরিকত্বের সাংবিধানিক অধিকার বহাল থাকল।