![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম দিল কেপ ভার্দে। মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে ইতিহাস গড়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা পাওয়া সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবেও নিজেদের নাম লিখিয়েছে তারা।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করার পর নিজেদের ভাগ্য জানতে মাঠেই মোবাইল ফোনে স্পেন ও উরুগুয়ের ম্যাচের শেষ মুহূর্ত দেখেন কেপ ভার্দের ফুটবলাররা। স্পেনের জয় নিশ্চিত হতেই গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে ওঠার আনন্দে ভাসেন তারা। গ্যালারিজুড়ে তখন শুরু হয় উচ্ছ্বাস, আবেগ আর আনন্দাশ্রুর উৎসব।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই সবাইকে চমকে দিয়েছে কেপ ভার্দে। উদ্বোধনী ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয় তারা। এরপর দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষেও ২-২ গোলে ড্র করে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই এনে দিয়েছে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সাফল্য।
স্পেনের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার হুয়ান মাতা কেপ ভার্দের প্রশংসা করে বলেন, দলটি শুধু একটি ম্যাচে নয়, টানা তিনটি ম্যাচেই সর্বোচ্চ মানের ফুটবল খেলেছে। তার মতে, এত ছোট একটি দেশের এমন পারফরম্যান্স সত্যিই অবিশ্বাস্য।
কেপ ভার্দের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন প্রবাসী কেপ ভার্দিয়ান ফুটবলারদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার কৌশল নেয়। বর্তমান বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ২৬ সদস্যের মধ্যে ১৪ জনই দেশের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। নেদারল্যান্ডস, পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেড়ে ওঠা এই ফুটবলাররাই জাতীয় দলের শক্তি বাড়িয়েছেন।
ডিফেন্ডার রবার্তো লোপেস বলেন, এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। বহু বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে দল গড়ে তোলার ফলই আজ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে দিয়েছে কেপ ভার্দেকে।
দলের সাফল্যের আরেকটি বড় ভিত্তি কোচ বুবিস্তার নেতৃত্ব। ২০২০ সাল থেকে দায়িত্বে থাকা এই সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার একটি সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ দল গড়ে তুলেছেন। তার অধীনে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে কেপ ভার্দে।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে গোলরক্ষক ভোজিনহার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি রক্ষণভাগের শৃঙ্খলাও প্রশংসা কুড়িয়েছে। পুরো ম্যাচে মাত্র একটি ফাউল করে তারা বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্সের নজির গড়েছে।
এবার নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের সামনে অপেক্ষা করছে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দলের বিপক্ষে খেলাকে নিজেদের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন কোচ বুবিস্তা।
তিনি বলেন, “আমাদের কাছে কিছুই অসম্ভব নয়। শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল বিশ্বের সামনে কেপ ভার্দেকে তুলে ধরা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলাটা আমাদের দেশের জন্য গর্বের মুহূর্ত।”
মিডফিল্ডার ডেরয় দুয়ার্তেও আত্মবিশ্বাসী। তার ভাষায়, “এটা স্বপ্নের মতো। আমরা জানি সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ, কিন্তু ফুটবলে কিছুই অসম্ভব নয়।”
ফুটবল বিশ্লেষকরাও কেপ ভার্দের এই সাফল্যকে বিশ্বকাপের অন্যতম অনুপ্রেরণার গল্প হিসেবে দেখছেন। সাবেক ইংল্যান্ড তারকা গ্যারি নেভিল বলেন, মাত্র পাঁচ লাখ মানুষের একটি দেশ বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে, আর উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দল বিদায় নিয়েছে—এটাই বিশ্বকাপের প্রকৃত সৌন্দর্য।
এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে—বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দে কি আরেকটি রূপকথা লিখতে পারে?
পাঠকের মন্তব্য