![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নতুন ফরম্যাট চালুর ফলে নকআউট পর্বের সমীকরণে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। দলসংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন ব্র্যাকেট কাঠামো এবং প্রতিপক্ষ নির্ধারণের ভিন্ন নিয়মের কারণে এবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ নির্ধারণে দেখা যাচ্ছে নতুন চিত্র।
বিশ্বকাপের আগের আসরগুলোতে সাধারণত এক গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন অন্য গ্রুপের রানার্সআপের মুখোমুখি হতো। তবে ২০২৬ আসরে ৪৮টি দল অংশ নেওয়ায় নকআউট পর্বও সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে এবার শেষ ৩২-এ জায়গা পেয়েছে আটটি সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলও।
ফিফার নতুন সূচি অনুযায়ী, সব গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের প্রতিপক্ষ এক নিয়মে নির্ধারণ করা হচ্ছে না। কিছু গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন খেলবে সেরা তৃতীয় স্থান পাওয়া দলের বিপক্ষে, আবার কিছু গ্রুপের চ্যাম্পিয়নকে খেলতে হবে অন্য গ্রুপের রানার্সআপ দলের বিপক্ষে।
এই কারণেই অনেক ফুটবলপ্রেমীর প্রশ্ন—ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েও কেন তৃতীয় স্থানধারী দলের বিপক্ষে খেলছে না?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে ফিফার পূর্বনির্ধারিত নকআউট ব্র্যাকেট ব্যবস্থায়। এখানে প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করা হয় না কোনো দলের শক্তিমত্তা বা অবস্থানের ভিত্তিতে। বরং কোন দল কোন গ্রুপ থেকে নকআউটে উঠেছে, সেই গ্রুপ-ভিত্তিক নির্ধারিত সূচি অনুসারেই ম্যাচ নির্ধারণ করা হয়।
উদাহরণ হিসেবে, গ্রুপ ‘ই’-এর চ্যাম্পিয়ন নির্দিষ্ট কয়েকটি গ্রুপের (এ, বি, সি, ডি অথবা এফ) তৃতীয় স্থানধারী দলের বিপক্ষে খেলবে। অর্থাৎ প্রতিপক্ষ নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্র্যাকেটই অনুসরণ করা হয়।
ফিফার সূচি অনুযায়ী, এ, বি, ডি, ই, জি, আই, কে এবং এল গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা শেষ ৩২-এ সেরা তৃতীয় স্থান পাওয়া দলের বিপক্ষে খেলবে।
অন্যদিকে সি, এফ, এইচ এবং জে গ্রুপের চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ হবে অন্য গ্রুপের রানার্সআপ দল।
এই নিয়মের ফলেই গ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ জাপানের বিপক্ষে। একইভাবে গ্রুপ ‘জে’-এর চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ।
ফিফার এই নতুন ব্র্যাকেট ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো নকআউট পর্বে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য বজায় রাখা। একই গ্রুপের দলগুলো যেন খুব দ্রুত আবার মুখোমুখি না হয় এবং টুর্নামেন্টের বড় দলগুলোর সম্ভাব্য লড়াইগুলোকে নির্দিষ্ট ধাপ পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া যায়—সেই চিন্তা থেকেই এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত এই নতুন ফরম্যাটে নকআউট পর্ব আগের তুলনায় আরও কৌশলগত ও পরিকল্পিত হয়েছে। ফলে প্রতিপক্ষ নির্ধারণের নিয়মেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, যা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ ও আলোচনা বাড়ছে।