![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এতে রাজধানী কারাকাসসহ একাধিক শহরে শত শত ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধসে পড়ে।
দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সর্বশেষ আপডেটে ১৬৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটের দিকে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কয়েক মুহূর্ত পরই ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড।
ভূমিকম্পের পরপরই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী, উদ্ধারকর্মী ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে মোতায়েন করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা বিভিন্ন ভিডিওতে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢালে অবস্থিত কয়েকটি ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওগুলোতে আরও দেখা যায়, আতঙ্কিত মানুষজন তাদের পরিবার ও পোষা প্রাণী নিয়ে দ্রুত ভবন ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসছেন। অনেকেই নিরাপত্তার আশঙ্কায় রাতভর খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেন।
ইউএসজিএস প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে জানিয়েছিল, ভূমিকম্পের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে। সংস্থাটি এক পর্যায়ে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও প্রকাশ করে।
এদিকে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খোঁজে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আফটারশকের আশঙ্কায় এখনও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা।