![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত সামরিক নীতির বিরুদ্ধে প্রতীকী অবস্থান নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট। মঙ্গলবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক তৎপরতা থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবটি সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে গৃহীত হয়। যদিও এটি একটি ‘কনকারেন্ট রেজ্যুলেশন’ হওয়ায় প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে না এবং এর সরাসরি আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, তবুও রাজনৈতিকভাবে এটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রস্তাবটি পাস হওয়ার ফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
ভোটের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প প্রস্তাবটিকে “ভুল সময়ে নেওয়া অর্থহীন পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এই সিনেটররা আমার কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছেন। তবে আমি যেভাবেই হোক কাজটি সম্পন্ন করব, কারণ আমি সবসময়ই তা করে থাকি।”
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌচলাচল ব্যবস্থা।
সিনেটে ভোটের আয়োজন করেন ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার। তিনি বলেন, “রিপাবলিকানরা ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধ ও ইরান নীতি নিয়ে যত সমালোচনাই করুক না কেন, যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করতে হলে তাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করছে, প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা অসাংবিধানিক এবং এতে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, বিদেশে সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী মোতায়েনের ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। তবে আইনটির ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, পূর্ববর্তী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থাকে দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে এই ভোট আইনি দিক থেকে সীমিত প্রভাব ফেললেও রাজনৈতিকভাবে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কৌশল ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নতুন বিতর্কেরও সূচনা করেছে।
পাঠকের মন্তব্য