![]()
ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা নিয়ে সমালোচকদের আরও তথ্যভিত্তিক ধারণা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে নিজ দলের সিনেটর টেড ক্রুজের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তাদের বিষয়টি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমার বন্ধু হলেও যারা এই চুক্তির সমালোচনা করছেন, তাদের আরও ভালোভাবে বিষয়টি বুঝতে হবে। কারণ ইরানকে আমরা এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছি, যেখানে আগে কোনো প্রশাসন যেতে পারেনি।”
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে অসন্তোষ বাড়ছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই অভিযোগ করেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে তাদের এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি।
ক্যাপিটল হিলে বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও এ নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে কংগ্রেসকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি। এখন পর্যন্ত পুরো কংগ্রেসের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়নি।
এদিকে সিনেটর টেড ক্রুজ শুরু থেকেই সমঝোতার কয়েকটি দিক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া এবং স্বল্পমেয়াদে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনার বিরোধিতা করছেন তিনি।
গত সপ্তাহে দেওয়া এক বক্তব্যে ক্রুজ বলেন, “ইতিহাস প্রমাণ করে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করতে চায় এমন ধর্মতান্ত্রিক উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে বিপুল অর্থ দেওয়া অত্যন্ত খারাপ সিদ্ধান্ত।”
তিনি আরও দাবি করেন, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভুল পরামর্শ পাচ্ছেন। ক্রুজের ভাষায়, “আমি চাই না আয়াতুল্লাহ সরকারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পয়সাও যাক।”
ইরানকে ঘিরে নতুন এই সমঝোতা নিয়ে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে কংগ্রেসের অনেক সদস্য চুক্তির শর্ত, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং ইরানের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
ফলে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ এবং কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
পাঠকের মন্তব্য