![]()
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন আবেদন ও মঞ্জুরি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে সরকার চালু করেছে অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পেনশনসংক্রান্ত সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা পেনশনের কাজে দীর্ঘদিন ধরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় অফিসে যাতায়াতের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে পেনশনাররা অনলাইনে তাঁদের আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন, ফলে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি হয়রানিও কমবে।
তিনি বলেন, সরকারি সেবা যদি ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে পাওয়া যায়, তাহলে তা দুর্নীতি কমানোর একটি কার্যকর উপায় হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে তিনি শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। বর্তমানে অবসরের ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো পেনশনার মারা গেলে তাঁর পরিবার পুনর্বহাল সুবিধা পায় না, যা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অর্থ বিভাগের সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত কর্মশালায় জানানো হয়, নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে অবসর-পূর্ব পেনশন কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হবে। এর ফলে আবেদনকারীদের বারবার সরকারি অফিসে যেতে হবে না এবং পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে।
নতুন ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো স্বয়ংক্রিয় বার্তা সেবা। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবসর-উত্তর ছুটি শুরুর প্রায় ১১ মাস আগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা পাবেন। পাশাপাশি অনলাইনে আবেদনপত্রের অগ্রগতি সরাসরি দেখা যাবে। চাকরির তথ্য ও আর্থিক বিবরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা ডেটাবেইস থেকে সংগ্রহ করা হবে, ফলে ভুল হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।
অনুষ্ঠানে অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, অবসরের পর অনেক কর্মচারী অনিশ্চয়তায় ভোগেন। নতুন এই ব্যবস্থা তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং পেনশন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে। তিনি অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদারে সমমর্যাদাভিত্তিক পেনশন ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী জানান, পেনশন-পরবর্তী অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা ইতোমধ্যে অনেকাংশে ডিজিটাল হয়েছে এবং সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থা পেনশন প্রক্রিয়ার আগের ধাপগুলোকে আরও সহজ ও দ্রুত করবে।
প্রাথমিকভাবে এই সিস্টেম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। পরে অর্থ বিভাগের হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়সহ সব মন্ত্রণালয় ও মাঠপর্যায়ের দপ্তরে এটি সম্প্রসারণ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি পেনশন সেবা আরও দ্রুত, সহজ এবং জনবান্ধব হয়ে উঠবে।
পাঠকের মন্তব্য