![]()
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, তিনি মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন কারণে অনিয়মিত হয়ে পড়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়ও আলোচনায় তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ, ন্যায্য ও কম ব্যয়বহুল হয় সে বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে এবং শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপও হ্রাস পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম শুভেচ্ছা বার্তাটি তিনি পেয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছ থেকে। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে তিনি আনন্দ ও সম্মানবোধ করছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালের মালয়েশিয়া সফর এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের সফরের কথা স্মরণ করেন। তারেক রহমান বলেন, এসব সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করেছিল।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়মিত পরামর্শ প্রক্রিয়া জোরদারের বিষয়েও একমত হয়েছে উভয় পক্ষ।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সংস্কৃতি, সন্ত্রাসবাদ দমনবিষয়ক গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা সংক্রান্ত বিভিন্ন দলিল বিনিময়কে স্বাগত জানিয়েছেন দুই দেশের নেতারা।
মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে কাজ করছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরা এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।
তিনি জানান, বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, অর্ধপরিবাহী শিল্পসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্য সংযোজন খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন।
জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ তাঁদের স্বাগত জানাতে পারলে গর্ববোধ করবে।
পাঠকের মন্তব্য