![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরান যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে যখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশ জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ চীন। বিপুল পরিমাণ কৌশলগত মজুত এবং আগাম পরিকল্পনার কারণে দেশটি বর্তমানে তেল সংকটের চাপ অনেকটাই এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি স্বাভাবিক করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চললেও, চীন তাৎক্ষণিকভাবে এই অঞ্চল থেকে তেল আমদানি বাড়াবে বলে মনে করছেন না জ্বালানি বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগেই আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনে মজুত করেছিল বেইজিং। ফলে যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা তৈরি হলেও দেশটির জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়নি।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানিগুলোর তেল সংরক্ষণাগার প্রায় পূর্ণ রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন শোধনাগারে উৎপাদিত পেট্রল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মজুতও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে নতুন করে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানির প্রয়োজনীয়তা আপাতত অনুভব করছে না দেশটি।
যুদ্ধকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চীন তাদের দৈনিক তেল আমদানি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেয়। তবে এ সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ ছিল আগেই গড়ে তোলা বিশাল মজুত ভাণ্ডার। এর ফলে দেশটি উচ্চমূল্যের বাজার থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে থাকতে সক্ষম হয়েছে।
অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের গবেষক ফিলিপ অ্যান্ড্রুজ-স্পিডের মতে, চীনের তেল কোম্পানিগুলো এখনও মূল্য পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে না নামা পর্যন্ত তারা ধীরে ধীরে আমদানি বাড়ানোর কৌশল অনুসরণ করবে।
অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির চাহিদাও কিছুটা কমেছে। উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সাধারণ ভোক্তা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি ব্যবহারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে পেট্রল ও ডিজেলের ব্যবহার প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকায় মজুত আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন যদি পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানির ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা শিথিল করে, তাহলে অপরিশোধিত তেলের চাহিদা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে বেইজিং ঐতিহ্যগতভাবেই জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে অত্যন্ত সতর্ক নীতি অনুসরণ করে থাকে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া ৬০ দিনের সমঝোতা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চীন বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নয় বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলেও আগাম মজুত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কারণে বর্তমানে তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে চীন। ফলে বিশ্বের অনেক দেশ যখন তেল সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় ব্যস্ত, তখন বেইজিং অপেক্ষাকৃত স্বস্তির অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য