
বছরের পর বছর লোকসানের বোঝায় ন্যুয়ে পড়া ও বন্ধ থাকা ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সচল করার এক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এই বিশাল সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন ব্যাংক ঋণের সুদ হ্রাস, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ এবং শর্তহীন আমলাতান্ত্রিক জটমুক্ত দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা।
দশকের পর দশক ধরে ভুল নীতি, দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব, আধুনিকায়নের অনীহা এবং লাগামহীন লোকসানের বোঝায় এই সম্পদগুলো পরিণত হয়েছিল রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বড় ‘ডেডওয়েট’ বা বোঝায়। সম্প্রতি দেশের নীতিনির্ধারণী মহলে এই নিথর দেহে নতুন করে প্রাণ সঞ্চারের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দেশি ও আন্তর্জাতিক শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি হয়ে গেল, তা দেশের শিল্প ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো এক বার্তা বহন করে। শিল্প ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকা বন্ধ ও লোকসানি ৪৪টি কারখানাকে বেসরকারি পুঁজি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় সচল করার এই উদ্যোগ আমাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভাবনার এক বড় রাজনৈতিক রূপান্তর।
লোকসানের খতিয়ান
বাস্তবতা কতটা রূঢ়, তা বুঝতে সরকারি খতিয়ানের দিকে একটু তাকানো যাক। বর্তমানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা মোট ১০৭টি কারখানার মধ্যে ২৬ শতাংশই সরাসরি লোকসানে ধুঁকছে এবং ৬৪ শতাংশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের সিংহভাগ শিল্পসম্পদই কোনো উৎপাদনশীল কাজে আসছে না। এই বন্ধ ও অচল কারখানার দীর্ঘ তালিকা থেকে প্রাথমিক ধাপে ৪৪টিকে বেছে নিয়েছে সরকার।
এর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমসি) আওতাধীন ১২টি কারখানা, বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) ৪টি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ১০টি, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) ১৩টি এবং বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) ৫টি কারখানা।
সরকার এবার পুরোনো ও ব্যর্থ কৌশল থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে। অতীতে দেখা গেছে, লোকসানি প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে সরকার বছরের পর বছর জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে গেছে, যা মূলত ফুটো কলসিতে পানি ঢালার শামিল ছিল। এবার সরকার যৌথ বিনিয়োগ (জয়েন্ট ভেঞ্চার), সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), দীর্ঘমেয়াদি টার্ম লিজ বা ইজারা এবং সরাসরি বিক্রির মতো আধুনিক অর্থনৈতিক মডেলের ওপর জোর দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব জমা দিতে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আপনাদের কোন ধরণের সহযোগিতা দরকার—তা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করব। আমরা আপনাদের সব ধরণের সহযোগিতা করব।’ এই বক্তব্য একটি রাজনৈতিক সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির বড় পরিবর্তনকে নির্দেশ করে, যেখানে রাষ্ট্র নিজে ব্যবসা না করে বরং বেসরকারি খাতের জন্য ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করতে ইচ্ছুক।
চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ঋণ ও জ্বালানি
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই বৈঠকে দেশের করপোরেট জগতের প্রায় সব মহারথী উপস্থিত ছিলেন। মেঘনা গ্রুপ, প্রাণ-আরএফএল, এসিআই, ট্রান্সকম, স্কয়ার, আকিজ, ওয়ালটন, রানারের মতো দেশীয় জায়ান্টদের পাশাপাশি জাপানের বিশ্ববিখ্যাত মারুবেনি, টয়োটা সুশো, সুমিতোমো, মিতসুই অ্যান্ড কোংয়ের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং জাপানি রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। এই উপস্থিতি প্রমাণ করে, বাজারের চোখে রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ কারখানাগুলোর বাণিজ্যিক গুরুত্ব কম নয়।
তবে উদ্যোক্তারা কেবল আশ্বাসে লগ্নির খাতায় সই করতে রাজি নন। তাঁরা বাস্তবমুখী এবং সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও সুবিধার কথা সামনে এনেছেন। ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমানের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি (টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস) এবং অতিরিক্ত আর্থিক প্রণোদনা পাওয়ার দাবি যৌক্তিক। বিনিয়োগকারীদের প্রধান দাবির একটি হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় ঋণের সুদহার বা মূলধন খরচ কমানো।
বর্তমানে এই বিশেষ স্কিমের ঋণের সুদের হার ৫ থেকে ৬ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বৈঠকে আভাস দিয়েছেন, বন্ধ কারখানা সচল করতে আগ্রহীদের জন্য এই সুদহার আরও ১ থেকে ২ শতাংশ কমানো যায় কি না, তা ভেবে দেখা হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দেশের সার্বিক ব্যাংকিং খাত যখন খেলাপি ঋণের পাহাড় আর তারল্য সংকটে জর্জরিত, তখন ব্যাংকগুলোর নিজস্ব পরিচালন ব্যয় (কস্ট অব ফান্ড) মাথায় রেখে ৫ শতাংশের নিচে ঋণ দেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত? গভর্নর নিজেই স্বীকার করেছেন, এর চেয়ে কম সুদে ঋণ দিলে ব্যাংকগুলোর টিকে থাকা কঠিন হবে। ফলে সস্তা অর্থায়নের এই সমীকরণ মেলানোই হবে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ।
দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে জটিল সংকটটি হলো জ্বালানি। বাংলাদেশের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের উদ্যোক্তারা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের অভাবে। সচল কারখানাতেই যেখানে প্রয়োজনীয় প্রেশারে গ্যাস মিলছে না, সেখানে নতুন করে ৪৪টি বিশাল কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া এবং তা সার্বক্ষণিক নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব? ব্যবসায়ীরা বলেছেন, সস্তায় ঋণ এবং গ্যাসের গ্যারান্টি ছাড়া এই মরচে পড়া কারখানায় কোটি কোটি টাকা খাটানো হবে আত্মঘাতী। সরকার যদি এই দুটি মৌলিক চাহিদার জোগান নিশ্চিত করতে না পারে, তবে এই মহৎ পরিকল্পনা কেবল ফাইলবন্দি দলিল হিসেবেই রয়ে যাবে।
সম্ভাবনা, বৈচিত্র্যায়ন এবং তুলনামূলক সুবিধা
সব প্রতিবন্ধকতা ও সমালোচনার ভেতরেও এই উদ্যোগের মাঝে কিছু সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। যেমন চিনি উৎপাদন খাতের কথাই ধরা যাক। বৈঠকে একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী চিনিকলের অব্যবহৃত জমিতে ‘বিট’ চাষ করে চিনি উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে বিট থেকে চিনি উৎপাদন খুব জনপ্রিয় ও লাভজনক, কারণ এটি কম সময়ে উৎপাদিত হয় এবং এর উৎপাদনশীলতা অনেক বেশি। এই ধরনের উদ্ভাবনী চিন্তাকে যদি বেসরকারি খাত বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে দেশের চিনি আমদানির ওপর বিশাল চাপ কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
তাছাড়া, গ্রিনফিল্ড প্রজেক্ট বা একদম নতুন করে কোনো শিল্প স্থাপন করতে গেলে বর্তমান বাজারে জমি অধিগ্রহণ করাই সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরপর রয়েছে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট ও প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ। এই ৪৪টি কারখানার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, এদের কাছে রয়েছে শত শত একর প্রস্তুত রেডিমেড জমি, যার অবস্থান স্ট্র্যাটেজিক্যালি চমৎকার। বেশির ভাগ কারখানাই মহাসড়ক, রেললাইন বা নদীপথের পাশে অবস্থিত, কোনো কোনোটি সমুদ্রবন্দর থেকে খুব বেশি দূরে নয়। বেসরকারি উদ্যোক্তারা এখানে একটি তৈরি প্ল্যাটফর্ম বা ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ সুবিধা পাচ্ছেন। অবকাঠামো তৈরির প্রাথমিক খরচ বেঁচে যাওয়ায় তাঁরা সরাসরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আমদানিতে সেই পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারবেন।
অতীত থেকে শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বা মিল বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে নতুন নয়। আশির দশক থেকে শুরু করে বিগত নব্বইয়ের দশকেও বড় আকারে বিরাষ্ট্রীকরণ বা বেসরকারীকরণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ইতিহাসের একটা বড় অংশই বেদনাবিধুর। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, উদ্যোক্তারা কারখানা চালু করার নাম করে নামমাত্র মূল্যে শত শত একর মূল্যবান সরকারি জমি লিজ বা কিনে নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে কারখানা তো চালুই হয়নি, উল্টো সেই জমি প্লট আকারে বিক্রি করা হয়েছে কিংবা ব্যাংকে বন্ধক রেখে হাজার কোটি টাকার ভুয়া ঋণ তুলে তা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বুঝে পাননি, আর রাষ্ট্র হারিয়েছে তার মহামূল্যবান সম্পদ।
এই অতীত অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। পিপিপি বা লিজের শর্তাবলি এমনভাবে ড্রাফট করতে হবে, যাতে কোনো ফাঁকফোকর না থাকে। জমি বা অবকাঠামো যেন কোনোভাবেই মূল শিল্পের বাইরে অন্য কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে (যেমন রিয়েল এস্টেট বা আবাসন) ব্যবহার করা না যায়, তা আইনি দলিলে স্পষ্ট থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি জাপানি কোম্পানিগুলোর অন্তর্ভুক্তি একটি ইতিবাচক দিক। জাপানি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগে স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির মান সাধারণত বৈশ্বিক মানের হয়, যা আমাদের দেশীয় করপোরেট সংস্কৃতির গুণগত মানোন্নয়নে সাহায্য করবে।
দূরদর্শী সমাধান ও টেকসই অগ্রযাত্রা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যথার্থই বলেছেন, ‘বাস্তবতা হলো, আমরা একবারে সব সমস্যার সমাধান করতে পারব না। তবে ধীরে ধীরে এবং পর্যায়ক্রমে সমাধান করা সম্ভব।’ রাষ্ট্রকে বুঝতে হবে , লাল ফিতার দৌরাত্ম্য আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আমাদের দেশে বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় শত্রু। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে এক ছাতার নিচে এসে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ নিশ্চিত করতে হবে।
যদি একজন বিনিয়োগকারীকে শুধু গ্যাসের সংযোগের অনুমতির জন্যই ছয় মাস বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হয়, তবে বিদেশি পুঁজি মুখ ফিরিয়ে নেবে। ৪৪টি কারখানার বর্তমান অবস্থা, জমির ম্যাপ, আইনি দায়দেনা (যদি থাকে) এবং লিজের শর্তাবলি পুরোপুরি ডিজিটাল ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত, যাতে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠার সুযোগ না থাকে।
এই ৪৪টি বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা পুনরুজ্জীবনের এই মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের শিল্পায়নের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এটি কেবল কারখানা চালুর বিষয় নয়, এটি আসলে রাষ্ট্রের একটি মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর—যেখানে রাষ্ট্র মেনে নিচ্ছে যে ব্যবসা পরিচালনা করা আমলাদের কাজ নয়, বরং দক্ষ পেশাদারদের কাজ। এই উদ্যোগ সফল হলে দেশীয় বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়বে, আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং লাখো বেকারের কর্মসংস্থান হবে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তবে এই সোনালী সম্ভাবনাকে ছুঁতে হলে সরকারকে সস্তা অর্থায়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তার বাস্তবিক সমাধান বের করতে হবে।
নীতিগত সুপারিশ বা করণীয়
১. কারখানাগুলো বেসরকারি খাতে দেওয়ার সময় কঠোর শর্তযুক্ত ‘সময়াবদ্ধ চুক্তি’ করতে হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার বাধ্যবাধকতা থাকবে। কোনো উদ্যোক্তা নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদনে যেতে ব্যর্থ হলে বা জমির বাণিজ্যিক অপব্যবহার করলে কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই লিজ বাতিল এবং রাষ্ট্র কর্তৃক জমি পুনঃঅধিগ্রহণের আইনি ধারা চুক্তিতে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
২. এই ৪৪টি কারখানার সচলতা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ‘জ্বালানি রোডম্যাপ’ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই কারখানাগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট কোটা বা ডেডিকেটেড গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইন বরাদ্দ করতে হবে। পাশাপাশি, কারখানার বিশাল শেডগুলোর ছাদে ক্যাপটিভ সোলার পাওয়ার বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের বাধ্য ও উৎসাহিত করতে হবে, যাতে মূল গ্রিডের ওপর চাপ কম পড়ে।
৩. ব্যাংকিং খাতের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সুদহার ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌথভাবে একটি ‘ইন্টারেস্ট সাবসিডি’ বা সুদ ভর্তুকি মডেল তৈরি করতে পারে। অথবা এই বিশেষ শিল্পায়নের জন্য বাজার থেকে পুঁজি তুলতে দীর্ঘমেয়াদি ‘শিল্প পুনরুজ্জীবন বন্ড’ (Industrial Revival Bonds) চালু করা যেতে পারে, যা ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর সরাসরি চাপ কমাবে।
৪. অতীতে বেসরকারীকরণের দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে বিডা, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং এফবিসিসিআই-এর সমন্বয়ে একটি স্বাধীন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘জাতীয় শিল্প পুনরুদ্ধার টাস্কফোর্স’ গঠন করতে হবে। কারখানা বরাদ্দের পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক ই-টেন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে করতে হবে এবং নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের ত্রৈমাসিক প্রোগ্রেস রিপোর্ট জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
লেখক: আহমেদ তোফায়েল,
সিনিয়র সাংবাদিক
পাঠকের মন্তব্য