![]()
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। আজ দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট রাজধানী থেকে উড্ডয়ন করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং একটি সীমিত আকারের সরকারি প্রতিনিধিদল।
মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি সরাসরি China সফরে যাবেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল স্বাক্ষরিত হতে পারে। বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও লি কিয়াংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সফরকালে তিনি চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত New Champions Annual Meeting-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনেও অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১,৭০০ প্রতিনিধি অংশ নেবেন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করবেন।
সফরের মালয়েশিয়া অংশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে চীন সফরে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে এবং এতে প্রায় ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য রয়েছেন। সরকার এই সফরকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী আগামী শুক্রবার রাতে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য