লেবাননে ইসরাইলি হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা ইরানের
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের প্রাণঘাতী বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ ও নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
শনিবার (২০ জুন) ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক বা অন্যান্য নৌযান চলাচল করতে পারবে না। সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে ‘প্রথম জবাব’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শত্রুপক্ষের আগ্রাসন ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনায় ইরান নীরব থাকবে না। লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর এবং ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান করিডর। প্রতিদিন বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ এই নৌপথ ব্যবহার করে থাকে। ফলে প্রণালী বন্ধের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে।
এদিকে ইরানের এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে।
লেবাননে চলমান সংঘাত, ইসরাইল-ইরান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণাকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।