![]()
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের লক্ষ্য কোনো বিদেশি দেশের অনুকরণ নয়; বরং দেশের বাস্তবতা, সম্ভাবনা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে একটি আরও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের উদ্দেশ্য।
শনিবার রাতে কক্সবাজারে স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা প্রায়ই শুনেছি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানানো হবে, কানাডা বানানো হবে। আমি বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের প্রতিচ্ছবি বানাতে চাই না। আমি বাংলাদেশকে আরও ভালো, আরও উন্নত একটি বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। দেশের উন্নয়ন, মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর হিসেবে কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক পরিচিতি রয়েছে। এ কারণে শহরটিকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও পর্যটকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তার ভাষায়, কক্সবাজার এমন একটি শহরে পরিণত হতে পারে যেখানে যানবাহন নিয়ম মেনে চলবে, যথাযথ পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে এবং পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন। এ ধরনের পরিবেশ পর্যটন শিল্পের বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত প্রায় দুই দশকে কক্সবাজারের সম্ভাবনার তুলনায় পর্যাপ্ত উন্নয়ন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় সফর করে তার মনে হয়েছে, বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এখন একসঙ্গে অনেক উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিতে হচ্ছে।
তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করা এবং এলাকায় একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করেন এবং পরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
পাঠকের মন্তব্য