![]()
আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে ঢাকার সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শুধু দেশের জন্য নয়, বরং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গৌরবের বিষয়। ১৯৮৮ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ পর্যন্ত ১৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালনকালে শহীদ হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত দুই লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ৪৩টি দেশে ৬০টিরও বেশি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন সদস্য ১০টি মিশনে কাজ করছেন এবং নতুন করে হাইতিতে একটি মিশনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
অনুষ্ঠানে নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। মোট শান্তিরক্ষীদের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য, যারা যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
Waker-uz-Zaman বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করেছে। অনুষ্ঠানে শহীদ শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহত সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং ভূরাজনৈতিক জটিলতার কারণে শান্তিরক্ষা মিশনগুলো এখন আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। তাই সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পেশাদারিত্ব, ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী শান্তিরক্ষীরা দেশের সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক।
পাঠকের মন্তব্য