![]()
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ও এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক Kristen Welker-এর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। রোববার সম্প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে ২০২০ সালের নির্বাচন, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির United States Capitol Attack এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার শিকারদের জন্য প্রস্তাবিত ক্ষতিপূরণ তহবিল নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন ট্রাম্প।
প্রায় চার মিনিটের তর্ক-বিতর্কের পর ট্রাম্প বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “আর নয়, অনেক হয়েছে। এবার এখানেই শেষ করা যাক। ধন্যবাদ, ডার্লিং। ভালো কাটুক সময়।” এরপর তিনি আসন ছেড়ে উঠে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের চিপেওয়া ফলসের একটি খামারবাড়িতে স্থাপিত অস্থায়ী স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যান। কৃষকদের একটি কর্মসূচিতে যোগদানের আগে শুক্রবার সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়েছিল।
সাক্ষাৎকারের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলার শিকার বলে দাবি করা ব্যক্তিদের জন্য ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা। ট্রাম্প জানান, সুযোগ পেলে তিনি এখনও এই তহবিল বাস্তবায়ন করতে চান। তিনি বলেন, “বিষয়টি যদি আমার হাতে থাকত, তাহলে আমি তাদের প্রাপ্য টাকা দিয়ে দিতাম। এটি অনুমোদন পেলে খুব ভালো, আর অনুমোদন না পেলে আমি হতাশ হব।”
এ সময় ওয়েলকার জানতে চান, ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল দাঙ্গায় পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার দায় স্বীকার করা ব্যক্তিরাও এই ক্ষতিপূরণের আওতায় পড়বেন কি না। ট্রাম্প সরাসরি এ সম্ভাবনা নাকচ করেননি। বরং তিনি দাবি করেন, অনেকেই কঠোর শাস্তির আশঙ্কায় দোষ স্বীকার করেছিলেন এবং এফবিআইয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
জবাবে ওয়েলকার উল্লেখ করেন, দাঙ্গাকারীদের ক্যাপিটল ভবনে প্রবেশে এফবিআই এজেন্টরা উৎসাহ দিয়েছিল—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্তেও এ ধরনের অভিযোগের সমর্থনে তথ্য মেলেনি। কিন্তু ট্রাম্প পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, “দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে ওই মানুষগুলোর জীবন ধ্বংস হয়েছে। তাদের অনেকেরই ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত।”
এরপর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচন। ট্রাম্প আবারও ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন, ভোট গণনা শেষ করতে কয়েকদিন সময় লাগাই অনিয়মের প্রমাণ। তবে ওয়েলকার স্পষ্টভাবে বলেন, এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী আইনে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত পোস্টমার্ক থাকা ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট এক সপ্তাহ পর্যন্ত গ্রহণ ও গণনা করা যায়।
ওয়েলকারের এই মন্তব্যের পর ট্রাম্প আরও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। তিনি এনবিসি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সঞ্চালককে আক্রমণ করে বলেন, “আপনি হয় অত্যন্ত কূটবুদ্ধির, না হলে আস্ত বোকা।” এরপর মাইক্রোফোন খুলে রেখে সাক্ষাৎকার কক্ষ ত্যাগ করেন।
প্রায় ৫০ মিনিটের সাক্ষাৎকারের সময় খামারবাড়ির টিনের ছাদে ভারী বৃষ্টির শব্দও শোনা যাচ্ছিল। পরে কৃষকদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিয়ে ট্রাম্প এই উত্তপ্ত ঘটনার কথা স্বীকার করেন এবং নিজের আচরণের জন্য আংশিকভাবে আবহাওয়াকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “বৃষ্টি হচ্ছিল, তাই ওদের ওপর একটু রেগে গিয়েছিলাম। ওদের আচরণে আমি খুশি হতে পারিনি। তবে আমাদের সময়টা ভালোই কেটেছে।”
পাঠকের মন্তব্য