![]()
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৭৮১ দশমিক ০৯ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। গতকাল সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫’-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, রুফটপ সোলার সিস্টেম এবং ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণ করা যায়।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির নীতি-২০২৫’ অনুযায়ী বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প স্থাপন করতে পারবেন। পাশাপাশি উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরকারি বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে অথবা নিজস্ব অবকাঠামো ব্যবহার করে বৃহৎ গ্রাহকদের কাছে সরাসরি বিক্রির সুযোগও থাকবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে ২৬টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ১৭২ মেগাওয়াট। এছাড়া ৬৬৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার আরও ১৫টি প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প ২০২৯ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার দীর্ঘমেয়াদে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর অঙ্গীকার থেকেই এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
পাঠকের মন্তব্য