![]()
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, জরিমানার অর্থ রামিসার পরিবারকে দিতে হবে; অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় করা হবে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, তিনি রায়ে সন্তুষ্ট হলেও তা কার্যকর হলে শতভাগ সন্তুষ্ট হবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর রামিসাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায় স্বপ্না। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবা-মা আসামিদের কক্ষের সামনে জুতা দেখতে পান। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা রামিসার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় এবং পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। ২০ মে রামিসার বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই দিন সোহেল আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় এবং স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তদন্ত শেষে ২৪ মে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
পাঠকের মন্তব্য