![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বাস সফলভাবে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে নদীর তলদেশ থেকে বাসটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসে থাকা যাত্রীদের আগেই নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৭ নম্বর ঘাট দিয়ে পন্টুন এলাকায় প্রবেশ করছিল। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর দুপুরে বাসটি নদী থেকে উত্তোলন করা হয়। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানিয়েছেন, বাসে থাকা চালক, সুপারভাইজার এবং চালকের সহকারীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো যাত্রীর প্রাণহানি বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের মধ্যে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহন এই ঘাট ব্যবহার করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফেরিঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং যানবাহন চলাচলে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
উল্লেখ্য, একই ফেরিঘাট এলাকায় চলতি বছরের ২৫ মার্চ একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। সেই ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে নতুন এই দুর্ঘটনা ঘিরে শুরুতে আতঙ্ক তৈরি হলেও দ্রুত উদ্ধার অভিযানের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য