![]()
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্রাহক ও পাইকারি—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কমিশন জানায়, গণশুনানি ও প্রস্তাবিত ব্যয় বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চলতি জুন মাসের বিল থেকেই কার্যকর হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৫২ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিভিন্ন গ্রাহকশ্রেণিতে ১৫ থেকে ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি ব্যয় সৃষ্টি করবে।
একই সঙ্গে পাইকারি (বাল্ক) পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বা প্রায় ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দাম বাড়ানোর পরও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) ঘাটতি পূরণে সরকারকে বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ক্ষেত্রে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর হুইলিং চার্জও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সঞ্চালন মূল্যহার প্রতি ইউনিট ০.৩১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ০.৩৮৮৬ টাকা হয়েছে। তবে বিভিন্ন গ্রাহকশ্রেণির জন্য বিদ্যমান ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বিইআরসি জানায়, গত মে মাসে বিউবো, পিজিসিবি, নেসকো, ডেসকো, ওজোপাডিকো, বাপবিবো ও ডিপিডিসিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব জমা দেয়। পরবর্তীতে ২০ ও ২১ মে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি, দলিলপত্র ও আর্থিক বিশ্লেষণ পর্যালোচনা করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয়, আমদানি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় এবং সরকারের ভর্তুকির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এক নজরে নতুন বিদ্যুৎ মূল্যহার
| স্তর | আগের দাম | নতুন দাম | বৃদ্ধি |
|---|---|---|---|
| খুচরা (গ্রাহক) | ৯.১১ টাকা | ১০.৬৩ টাকা | ১.৫২ টাকা |
| পাইকারি (বাল্ক) | ৭.০০ টাকা | ৮.৩৯ টাকা | ১.৩৯ টাকা |
| সঞ্চালন (হুইলিং চার্জ) | ০.৩১৩৫ টাকা | ০.৩৮৮৬ টাকা | ০.০৭৫১ টাকা |
| ডিমান্ড চার্জ | অপরিবর্তিত | অপরিবর্তিত | — |
নতুন এই মূল্যহার পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
পাঠকের মন্তব্য