![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে রুশ বাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হানছে ইউক্রেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী অধিকৃত অঞ্চলে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক নেটওয়ার্ক, জ্বালানি সরবরাহ, গোলাবারুদ পরিবহন এবং সামরিক যানবাহনের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক এআইচালিত ড্রোন প্রযুক্তি যুদ্ধের ধরণই বদলে দিচ্ছে। ইউক্রেন এখন এমন সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানতে পারছে, যেগুলো কয়েক মাস আগেও নিরাপদ বলে বিবেচিত হতো। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে ক্রিমিয়া এবং দক্ষিণ ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে খাদ্য, জ্বালানি, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো এখন ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
বিবিসি ভেরিফাই এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থার যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রুশ সামরিক বহরের ট্রাক, জ্বালানিবাহী যান, গোলাবারুদ পরিবহনকারী কনভয় এবং সরবরাহ লাইনগুলোতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। এসব হামলার ফলে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘হরনেট’ নামের এআইচালিত ড্রোন সিস্টেম ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। উন্নত লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে এই ড্রোনগুলো শত্রুপক্ষের যানবাহন শনাক্ত করে দ্রুত আঘাত হানতে সক্ষম। দীর্ঘদিনের সংগৃহীত সামরিক তথ্য ও ভিডিও ডেটার ভিত্তিতে প্রশিক্ষিত এআই ব্যবস্থার কারণে হামলার নির্ভুলতা অনেকগুণ বেড়েছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়ার সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল করে দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা হ্রাস করা। যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি সংঘর্ষের পাশাপাশি এখন লজিস্টিক অবকাঠামো ধ্বংস করাও ইউক্রেনের অন্যতম অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
সামরিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপদ সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখা। ইউক্রেনের এআই ড্রোন হামলার কারণে রুশ বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে সময়, অর্থ এবং সামরিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ছে।
যুদ্ধ বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই কৌশল ভবিষ্যতের যুদ্ধ ব্যবস্থার দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বয়ে ইউক্রেন এমন একটি যুদ্ধকৌশল গড়ে তুলেছে, যা বিশ্ব সামরিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য