![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অংশ হিসেবে সরকার পুনরায় দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের জারি করা নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুন থেকে সারা দেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। সরকারের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি আমদানির চাপ এবং সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল। তবে পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে এবং ক্রেতাদের কেনাকাটার সুবিধা দিতে গত ১০ মে থেকে সাময়িকভাবে দোকানপাট খোলা রাখার সময় রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। ঈদের বিশেষ সুবিধার সময়সীমা শেষ হওয়ায় এখন আবার আগের নিয়মে ফিরে যাওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব শপিংমল, সুপারশপ, বিপণিবিতান, কাঁচাবাজার, খুচরা দোকান এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে তাদের কার্যক্রম শেষ করতে হবে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ অপচয় রোধে সব ধরনের বিজ্ঞাপন বোর্ড, ডিজিটাল বিলবোর্ড ও আলোকসজ্জার বাতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকির কথাও বলা হয়েছে।
ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ এই সিদ্ধান্তে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।