![]()
মধ্যপ্রাচ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে, অন্যদিকে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রোববার রাতে ইরানের রাডার ও কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। একই অভিযানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং হুমকি হিসেবে বিবেচিত দুটি ড্রোন ধ্বংস করার কথাও জানানো হয়।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা ইরানের সিরিক দ্বীপে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলায় জড়িত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে কোন ঘাঁটি লক্ষ্য করা হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি তেহরান। এর আগে কুয়েতও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল।
এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে দুই পক্ষ একাধিকবার পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালালেও পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হয়নি। চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো শত্রুতা কমিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই জলপথে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে চায়, অন্যদিকে ইরান নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, নতুন প্রস্তাবগুলো বড় ধরনের পরিবর্তন না হলেও চুক্তির শর্তগুলো আরও কঠোর করা হচ্ছে যাতে কার্যকর নিশ্চয়তা পাওয়া যায়।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান একটি সমঝোতায় আগ্রহী এবং আলোচনার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা না থাকায় দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া কোনো চুক্তি অনুমোদন করা হবে না।
এদিকে সংঘাতের প্রভাব অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। তেল সরবরাহে বিঘ্ন ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য