![]()
ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী কক্সবাজার। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। তবে পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ঈদের ছুটি একত্রে মিলে যাওয়ায় এবার আগাম বুকিং প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল।
গতকাল শুক্রবার থেকে আজ পর্যন্ত লাবণী সৈকত, সুগন্ধা সৈকত, কলাতলী সৈকত এবং টেকনাফ সমুদ্রসৈকত এলাকায় পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে, সমুদ্রস্নান করতে এবং ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন দর্শনার্থীরা।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, আগাম বুকিং তুলনামূলক কম হলেও ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিনে হোটেল ও রিসোর্টগুলোর বুকিং আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশাবাদী।
বর্তমানে পর্যটকদের আগ্রহ শুধু সমুদ্রসৈকতে সীমাবদ্ধ নয়। জেলার বিভিন্ন প্রাকৃতিক, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাহপরীর দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ এবং মেরিন ড্রাইভ বিকল্প পর্যটন গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটকরা ভ্রমণ করছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, বনাঞ্চল এবং পাহাড়ি এলাকায়।
এছাড়া ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের ক্ষেত্রেও আগ্রহ বাড়ছে। দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন আদিনাথ মন্দির, রামু বৌদ্ধবিহার এবং মাথিনের কূপ-এ।
ট্যুরিস্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (TOUAC)-এর সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, পর্যটকরা এখন সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি দ্বীপ, পাহাড়, বনাঞ্চল ও ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখছেন। এতে কক্সবাজারের পর্যটন খাত আরও বৈচিত্র্যময় হচ্ছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমুদ্রসৈকত ও বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, লাইফগার্ড এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, সমুদ্র, পাহাড়, বন, দ্বীপ, বন্যপ্রাণী এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়ে কক্সবাজার ধীরে ধীরে একটি বহুমাত্রিক পর্যটন জেলায় পরিণত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে সারা বছরই পর্যটকের উপস্থিতি আরও বাড়বে।
পাঠকের মন্তব্য