![]()
তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কোনো সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংরি-লা ডায়ালগ-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে এবং এ ধরনের অভিযানের জন্য তাদের সামরিক প্রস্তুতি ও অস্ত্রভাণ্ডার পর্যাপ্ত রয়েছে।
হেগসেথ বলেন, “প্রয়োজনে পুনরায় হামলা শুরু করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে যথেষ্ট সমর্থ।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত অবস্থানে রয়েছে।
মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকরা যখন বড় ধরনের মতপার্থক্য দূর করে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার চেষ্টা করছেন, তখনই তার এই বক্তব্য আসে। বর্তমানে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন কাঠামোয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি তাদের কৌশলগত মনোযোগ কমায়নি।
তার ভাষায়, “আমরা একই সঙ্গে দুটি কাজ করতে পারি।” তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প খাতকে আরও শক্তিশালী করছে, যাতে ভবিষ্যতে গোলাবারুদ উৎপাদন দ্বিগুণ, তিনগুণ বা চারগুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ঘাটতি না থাকে।
হেগসেথ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চান এবং এমন একটি চুক্তির পক্ষে রয়েছেন, যা নিশ্চিত করবে যে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধের অবসানসংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের নিরাপদ বৈঠককক্ষে উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। আলোচনায় থাকা প্রস্তাবে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাতে দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক বিকল্প এখনো ওয়াশিংটনের টেবিলে রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য