![]()
ইলন মাস্ক-এর প্রতিষ্ঠান SpaceX এবং পেন্টাগন-এর মধ্যে স্টারলিঙ্ক ও স্টারশিল্ড স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মূল্য নিয়ে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে Reuters। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত লুকাস কামিকাজে ড্রোনে স্টারলিঙ্ক-ভিত্তিক সংযোগ ব্যবহারের পর স্পেসএক্স পেন্টাগনের কাছে বাড়তি মূল্য দাবি করে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, স্পেসএক্সের কর্মকর্তারা দাবি করেন, পেন্টাগন প্রতিটি টার্মিনালের জন্য মাত্র ৫ হাজার ডলার দিচ্ছে, অথচ ব্যবহৃত সেবার প্রকৃত মূল্য প্রায় ২৫ হাজার ডলার হওয়া উচিত। বিশেষ করে লুকাস ড্রোনের মতো আক্রমণাত্মক ড্রোনে ব্যবহৃত স্টারশিল্ড সেবাকে তারা ‘অ্যাভিয়েশন গ্রেড’ পরিষেবা হিসেবে বিবেচনা করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান তীব্র হওয়ার সময় পেন্টাগন শেষ পর্যন্ত বাড়তি মূল্য মেনে নেয়। এতে প্রতিটি লুকাস ড্রোন পরিচালনার খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। একইসঙ্গে ইরানে যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ এড়াতে স্টারলিঙ্কের মাধ্যমে সরাসরি মোবাইল-টু-স্যাটেলাইট সেবা চালুর পরিকল্পনা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে নতুন বিরোধ তৈরি হয়।
SpaceX-এর সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ড সাধারণ স্টারলিঙ্কের চেয়ে বেশি সুরক্ষিত এবং এটি পৃথক সামরিক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পেন্টাগনের বিভিন্ন ড্রোন, সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা ও চালকবিহীন যানেও এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে পুরো প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন ইলন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, সাধারণ স্টারলিঙ্ক ব্যবস্থাকে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এটি কোম্পানির নীতির পরিপন্থি। একইভাবে পেন্টাগনের মুখপাত্রও রয়টার্সের প্রতিবেদনকে ভুল বলে দাবি করেছেন, যদিও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে স্টারলিঙ্কের মতো স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তা খাতে ইলন মাস্ক-এর প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা মোট স্যাটেলাইটের ৬০ শতাংশের বেশি SpaceX-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য