![]()
ভারতে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আবারও পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার দেশটির সরকারি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খুচরা পর্যায়ে পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯১ পয়সা বাড়িয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মে থেকে আট দিনের ব্যবধানে তিন দফা জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি হলো। রাজধানী নয়াদিল্লিতে এখন প্রতি লিটার পেট্রলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৯ রুপি ৫১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯২ রুপি ৪৯ পয়সা।
ভারতের সরকারি তেল কোম্পানিগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মে প্রথম দফায় দাম বাড়ানোর পরও পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি বিক্রি করে প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ কোটি রুপি লোকসান গুনতে হচ্ছিল তেল কোম্পানিগুলোকে। নতুন মূল্যবৃদ্ধি তাদের কিছুটা স্বস্তি দিলেও এখনো লোকসান পুরোপুরি কাটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত সরকার একসঙ্গে বড় মূল্যবৃদ্ধি না করে ধাপে ধাপে দাম বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে মূলত রাজনৈতিক ও মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে। সম্প্রতি কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন থাকায় সরকার দীর্ঘদিন জ্বালানির দাম স্থির রেখেছিল।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে তা শুধু পরিবহন নয়, খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দামেও প্রভাব ফেলে। ডিবিএস ব্যাংক-এর অর্থনীতিবিদ রাধিকা রাওর মতে, জ্বালানির দাম ৩-৫ শতাংশ বাড়লে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে ভারতের তেল আমদানি ব্যয় দ্রুত বাড়ছে এবং চলতি অর্থবছরে তা ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য