![]()
ভারতে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ এখন সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তান-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর পাকিস্তানে একাধিক অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক পেজ ও গ্রুপ গড়ে উঠেছে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’, ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’ এবং ‘মুত্তাহিদা ককরোচ মুভমেন্ট’।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব পেজ নিজেদেরকে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করছে। পাকিস্তানের প্রধান দলগুলোর মধ্যে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি-এর বাইরে নতুন ধরনের প্রতিবাদী ও ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন পরিচয় তৈরির চেষ্টা করছে তারা।
ভারতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ ধারণাটি ভাইরাল হয় সুপ্রিম কোর্টের এক মন্তব্য ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, বেকার তরুণদের নিয়ে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে নামের এক তরুণ অনলাইনে ‘Cockroach Janata Party’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। পরে সেটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো অনুসারী অর্জন করে।
পাকিস্তানি সংস্করণগুলোর মধ্যে ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’ তাদের পরিচিতিতে লিখেছে— “তরুণদের রাজনৈতিক মঞ্চ, তরুণদের দ্বারা, পাকিস্তানের জন্য।” আরেকটি অ্যাকাউন্টে লেখা হয়েছে— “যাদের সিস্টেম তেলাপোকা মনে করেছিল, আমরা সেই জনসাধারণেরই কণ্ঠস্বর।”
এসব অ্যাকাউন্টের লোগো ভারতীয় সংস্করণের সঙ্গে মিল থাকলেও পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার আদলে সবুজ-সাদা রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলোর অনুসারী দ্রুত বাড়ছে এবং তরুণদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের রাজনৈতিক হতাশা, ব্যঙ্গ-সংস্কৃতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক প্রতিবাদের নতুন এক ধারা তুলে ধরছে।
পাঠকের মন্তব্য