![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের অতীত ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চায় না তারা। বিশেষ করে সরকার ও দলকে একীভূত করার পরিবর্তে আলাদা সাংগঠনিক কাঠামো বজায় রাখার নীতিতে এগোচ্ছে বিএনপি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এবার দল গোছানোর মিশনে নেমেছে বিএনপির হাইকমান্ড। কোরবানির ঈদের পর পূর্ণোদ্যমে শুরু হবে দল ও অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠন কার্যক্রম। দলীয় সূত্র বলছে, যারা বর্তমানে মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা আর দল ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পদে থাকতে পারবেন না। নতুন নেতৃত্ব আনার মাধ্যমে রাজপথের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে চায় দলটি।
নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে পারে বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল। সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। সেই কাউন্সিলে ৫০২ সদস্যের নির্বাহী কমিটি, ১৯ সদস্যের জাতীয় স্থায়ী কমিটি এবং ৮৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও নানা রাজনৈতিক বাস্তবতায় তা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক জেলার অর্ধেকের বেশি কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। একইসঙ্গে ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কেবল যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ এখনো রয়েছে। তবে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই এখন মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হওয়ায় সাংগঠনিক কাজে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকি করছেন। নতুন কমিটি গঠনের সম্ভাবনায় ইতোমধ্যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। পদপ্রত্যাশীরাও শুরু করেছেন ব্যাপক তদবির।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকাকালে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বহু কমিটি বছরের পর বছর মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। বিএনপি এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে সবসময় সক্রিয় ও আন্দোলনমুখী রাখতে চাইছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, “দল ও অঙ্গসংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্বশীল নেতাদের নিয়ে কাজ করছেন। খুব দ্রুতই পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে।”
এদিকে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও কৃষক দলে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পদে আলোচনায় রয়েছেন রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় এবং দীর্ঘদিন মামলা-হামলার শিকার নেতারা। দলীয় নেতাদের মতে, এবার নেতৃত্ব বাছাইয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও দলের প্রতি আনুগত্য।
পাঠকের মন্তব্য