![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের যাত্রা সহজ ও আরামদায়ক করতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে নিয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। ঈদযাত্রার বাড়তি চাপ সামাল দিতে একটি স্পেশাল ট্রেন চালুর পাশাপাশি নয়টি আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের ঘোষণা দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ ট্রেনটি ঢাকার জয়দেবপুর থেকে পার্বতীপুর রুটে চলাচল করবে। এছাড়া আগামী ২৩ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে ট্রেনগুলোতে বাড়তি শোভন ও এসি বগি যুক্ত থাকবে। এতে ঈদ উপলক্ষে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের তথ্যমতে, নীলফামারী/রকেট এবং সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। ঈদের আগে প্রতিটি ট্রেনে একটি করে এবং ঈদের পরে দুটি করে বাড়তি বগি যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে শোভন ও এসি—দুই ধরনের কোচই রাখা হচ্ছে, যাতে সাধারণ ও আরামপ্রিয় উভয় শ্রেণির যাত্রীরা সুবিধা পান।
এছাড়া রাজশাহী রুটের জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, পদ্মা এক্সপ্রেস এবং ধূমকেতু এক্সপ্রেস-এও বাড়তি কোচ সংযোজন করা হবে।
উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য দ্রুতযান এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস এবং একতা এক্সপ্রেস-এও অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত করা হবে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ২৭ মে ৭৯৩ নম্বর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস চলাচল করবে না।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের আগে সাধারণত ২৩ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত এবং ঈদের পরে ২৯ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত অতিরিক্ত কোচ সংযোজন কার্যক্রম চালু থাকবে। এতে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং টিকিট সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঈদযাত্রার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পুরনো কোচ মেরামত ও সংস্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলের জন্য ১২৭টি কোচ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ১০৩টি কোচ পাকশী ও লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। অতিরিক্ত কোচ সংযোজন ও স্পেশাল ট্রেন চালুর মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য