![]()
৭৯তম ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি-তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. এম. এ. মুহিত। সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন সরকার জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে স্বাস্থ্যখাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষকে নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হয়, যা বহু পরিবারকে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে ফেলছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো, সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, কার্যকর রেফারাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটালাইজেশন জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।
জেনেভা-এ অনুষ্ঠিত এই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সম্মেলনের মূল অধিবেশনে গত ১৯ মে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন তিনি। ছয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিচ্ছে এ আয়োজনে।
সম্মেলনের এক সাইড ইভেন্টে গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের নীতিনির্ধারণী বৈঠকেও অংশ নেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি সরকারের স্বাস্থ্য সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, সরকার সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য তথ্যের সমন্বয়, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মানসিক স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধীবান্ধব সেবা ও অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। রোগের ধরন পরিবর্তনের ফলে দেশের বিদ্যমান স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১.৩ মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতিও দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
বক্তব্যে তিনি নিরাপদ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ‘প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং’ ব্যবস্থা দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অসংক্রামক রোগ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাঠকের মন্তব্য