![]()
বেসরকারি খাতে কর্মরত লাখো চাকরিজীবীর জন্য একটি যুগোপযোগী ও সমন্বিত ‘বেসরকারি সার্ভিস রুলস’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এই বিধিমালার লক্ষ্য হলো চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও হয়রানি রোধে একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি করা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রস্তাবিত এই বিধিমালায় যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
- ন্যূনতম বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা
- কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত কাজের নীতিমালা নির্ধারণ
- নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক করা
- মাতৃত্বকালীন ও অন্যান্য ছুটির নিশ্চয়তা
- জোরপূর্বক শ্রম ও কর্মক্ষেত্রে হয়রানি প্রতিরোধ
- চাকরির স্থায়িত্ব ও ন্যায্য চাকরিচ্যুতি প্রক্রিয়া
- গিগ ও প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কর্মীদের সুরক্ষা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা জামানের নেতৃত্বে একটি কমিটি এ বিষয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬’ ও ‘শ্রম বিধিমালা-২০১৫’-এ সংশোধন বা সংযোজন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, বর্তমানে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের হঠাৎ ছাঁটাই, স্থায়ী না করা, সার্ভিস বেনিফিট না দেওয়া কিংবা নারী কর্মীদের যথাযথ মাতৃত্বকালীন ছুটি না দেওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে। নতুন বিধিমালার মাধ্যমে এসব অনিয়ম কমিয়ে কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
একই সঙ্গে উবার, পাঠাও ও ফুডপান্ডার মতো প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কর্মীদের জন্যও একটি সুনির্দিষ্ট সার্ভিস কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা বাংলাদেশের শ্রমবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট কর্মজীবী মানুষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বেসরকারি খাতে কর্মরত। ফলে এই খাতের চাকরিজীবীদের জন্য সমন্বিত সার্ভিস রুলস চালু হলে তা দেশের শ্রমবাজার ও কর্মপরিবেশে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য