![]()
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে ভূমিসেবা গ্রহণের জন্য মানুষকে আর অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না এবং দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না। মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভূমির মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, নামজারি, জমা-খারিজসহ বিভিন্ন সেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করা হয়েছে, ফলে এখন নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে অনেক ভূমিসেবা গ্রহণ করতে পারছেন। যারা নিজেরা অনলাইন ব্যবহার করতে পারেন না, তাদের জন্য দেশের ৬১টি জেলায় ৮৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে ‘ভূমি’ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। অনলাইনভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনা জমিজমা সংক্রান্ত দুর্ভোগ কমাবে এবং ভূমি অফিসে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও হ্রাস করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে আসছে, ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা ও জটিলতাও বাড়ছে। এ বাস্তবতায় পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা সময়ের অপরিহার্য দাবি।
তারেক রহমান আরও বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুতে কাজ করছে সরকার এবং ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ৪৭ লাখের বেশি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন, যার বড় অংশই জমিজমা সংক্রান্ত। এ কারণে আদালতের বাইরে গ্রাম আদালত ও এডিআরের মতো বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আলবার্ট আইনস্টাইনের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শক্তি দিয়ে নয়, বোঝাপড়ার মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”
তিনি বলেন, জমি শুধু সম্পদ নয়, বরং মানুষের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্থিতি ও ভবিষ্যতের ভিত্তি। তাই সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করতে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেবা প্রদান জনগণের প্রতি করুণা নয়, বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, তিন দিনব্যাপী এই মেলার মাধ্যমে জনগণ ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান সংগ্রহ, রেকর্ড সংশোধন ও অভিযোগ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণে উপকৃত হবেন।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী দেশের সব জেলা ও উপজেলায় একযোগে শুরু হওয়া মেলার কার্যক্রম ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন। পরে তিনি ভূমি ভবনের বিভিন্ন স্টল, কল সেন্টার, নাগরিক সেবাকেন্দ্র ও ডে-কেয়ার সেন্টার পরিদর্শন করেন। আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলা এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “জনবান্ধব স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ”।
পাঠকের মন্তব্য