![]()
উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘অনুরোধে’ মঙ্গলবার ইরানে পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি বলেন, বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার জন্য ‘গুরুতর আলোচনা’ চলছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, Qatar, Saudi Arabia এবং United Arab Emirates-এর নেতাদের অনুরোধেই তিনি হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন। তার দাবি, তাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে— এমন একটি চুক্তি হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য’ হবে। একই সঙ্গে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া হবে না।
তবে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আলোচনায় সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘যেকোনো মুহূর্তে’ ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ওয়াশিংটনকে ‘কৌশলগত ভুল’ না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার ভাষায়, আগেও কয়েকবার চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। তবে এবারের আলোচনা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
গত এপ্রিল থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি ছোটখাটো সংঘর্ষের মধ্যেও মোটামুটি বহাল রয়েছে। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz এখনো ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়েছে। একই সময়ে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধও বহাল রয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম Tasnim News Agency সোমবার দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা Mojtaba Khamenei-এর বক্তব্য প্রকাশ করেছে। সেখানে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এমন নতুন ফ্রন্ট খোলা হবে যেখানে প্রতিপক্ষের অভিজ্ঞতা কম এবং দুর্বলতা বেশি।
বর্তমানে Pakistan-এর মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখনো তেহরানকে কোনো স্পষ্ট ছাড় দিতে রাজি হয়নি। অথচ কয়েকদিন আগেও ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে ‘তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
ইরানের প্রস্তাবিত শান্তি শর্তের মধ্যে রয়েছে— সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে আর হামলা না করার নিশ্চয়তা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং Strait of Hormuz-এর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইরান কেবল একটি পারমাণবিক কেন্দ্র চালু রাখতে পারবে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
তবে শুক্রবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরান যদি ২০ বছরের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখে, তাহলে সেটিও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে পুরোপুরি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের পূর্ববর্তী কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত মিলছে।
এদিকে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে তার জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকানদের বড় অংশই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে সমর্থন করছে না।
The New York Times ও সিয়েনা কলেজের এক জরিপ অনুযায়ী, ৬৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। একই জরিপে মাত্র ৩৭ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও Israel যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরু করলে পাল্টা জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।
পাঠকের মন্তব্য