![]()
দেশের বিদ্যুৎ খাতে আবারও বড় ধরনের আর্থিক চাপের ইঙ্গিত মিলেছে। ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত Bangladesh-India Friendship Power Company Limited (বিআইএফপিসিএল) জানিয়েছে, রামপালের Maitree Super Thermal Power Plant সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন।
বিআইএফপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পুজারি ১০ মে Bangladesh Power Development Board (বিপিডিবি)-কে পাঠানো চিঠিতে সতর্ক করেছেন, সময়মতো অর্থ ছাড় না হলে ঋণ পরিশোধে খেলাপির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে কয়লা আমদানি ব্যাহত হওয়া, জাহাজের ডেমারেজ চার্জ বৃদ্ধি এবং উৎপাদন কার্যক্রমে সংকট দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই কেন্দ্রটি প্রায় ১ হাজার ২৩৪ মেগাওয়াট নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। অর্থাৎ দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এটি এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেসলোড কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
চিঠির তথ্যমতে, কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন কয়লা ব্যবহারে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৪ থেকে ২৬ কোটি টাকা। মাস শেষে শুধু কয়লা আমদানির ব্যয়ই দাঁড়াচ্ছে ৭০০ কোটির বেশি। এর বাইরে ঋণ পরিশোধ, কাস্টমস ডিউটি, যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে আরও প্রায় ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হচ্ছে।
বিআইএফপিসিএল বলছে, সরকারের কাছে তাদের বিদ্যুৎ বিল বাবদ পাওনা ইতোমধ্যে ১ হাজার কোটির বেশি হয়ে গেছে। বিপিডিবির এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল শেষে এই বকেয়া প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটিতে পৌঁছেছে। তবে এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে সরকারের ভর্তুকির অর্থ সময়মতো ছাড় না হওয়া।
অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ ভর্তুকি খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও এপ্রিল পর্যন্ত ছাড় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। অথচ বিপিডিবি ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দাবি করেছে। ফলে বিদ্যুৎ খাতে বড় অংকের অর্থ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালীন উচ্চ চাহিদার সময়ে রামপালের মতো বড় কেন্দ্র উৎপাদনে ব্যাহত হলে জাতীয় গ্রিডে তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হতে পারে। তখন বিকল্প হিসেবে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ব্যয়বহুল কেন্দ্র চালাতে হবে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়াবে এবং লোডশেডিং পরিস্থিতিও খারাপ করতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বৃদ্ধির অভিযোগ, গ্যাস সংকট এবং আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা—সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য