![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বিশ্ববাজারের বিদ্যমান অস্থিরতা এবং বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদী বাণিজ্যিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে সুদের সর্বোচ্চ সীমা (অল-ইন-কস্ট সিলিং) পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে আমদানিকারক ও উদ্যোক্তারা বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মুদ্রার বেঞ্চমার্ক রেটের সঙ্গে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত মার্জিন বা সুদ ব্যয় করতে পারবেন।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সকল অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারের বর্তমান প্রবণতা এবং মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণত এসওএফআর বা ইউরিবোর -এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বেঞ্চমার্ক রেটগুলোর ওপর ভিত্তি করে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণের সুদ নির্ধারিত হয়। আগের নির্দেশনায় এই মার্জিনের হার ভিন্ন থাকলেও, এখন থেকে আমদানির ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদী বাণিজ্যে এই ব্যয়সীমা ৩ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এটি আমদানিকারকদের জন্য ঋণের খরচে নতুন একটি কাঠামো তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাংকগুলো সাধারণত আমদানির দায় মেটাতে বিদেশি ব্যাংক বা সংস্থা থেকে যে ঋণ নেয়, তার ব্যয়ভার এই নতুন সিলিংয়ের ওপর নির্ভর করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, আমদানির পাশাপাশি রপ্তানি বিল ডিসকাউন্টিং এবং ওপেন অ্যাকাউন্ট ক্রেডিট সিস্টেমের আওতায় আগাম রপ্তানি মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রেও এই পুনর্নির্ধারিত হার কার্যকর হবে। অর্থাৎ রপ্তানিকারকরা যখন তাদের বিল আগাম নগদায়ন করবেন, সেখানেও এই নতুন সুদের হারের প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে, এই নতুন হার অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে বাণিজ্যের অন্যান্য প্রচলিত নিয়মাবলী অপরিবর্তিত থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে ঋণের ব্যয় বাড়তে থাকায় দেশের ব্যাংকগুলো যাতে অতিরিক্ত সুদ দিতে বাধ্য না হয়, সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই নিয়ন্ত্রিত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।