![]()
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া থালাপাতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কালাগাম (টিভিকে) ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয়ী হয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে তারা ১০টি আসন পিছিয়ে থাকায় এখনো নিশ্চিতভাবে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন ডিএমকে জোট ৭৩টি আসন এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৫৩টি আসন পেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে, আর অন্যান্য দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কোনো আসনই জিততে পারেনি। ফলে ত্রিশঙ্কু বিধানসভা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এই অবস্থায় সম্ভাব্য তিনটি সমীকরণ সামনে এসেছে। প্রথমত, টিভিকে ডিএমকে জোটের ছোট দলগুলোকে নিজেদের দিকে টেনে সরকার গঠন করতে পারে। ডিএমকে জোটে থাকা কংগ্রেস, বাম দলগুলো ও একটি দলিত-ভিত্তিক দলের মোট ১৪টি আসন রয়েছে, যা টিভিকের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে। তবে এতে জাতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া জোটের ভেতরে নতুন জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ডিএমকে জোট পুরোপুরি টিভিককে সমর্থন দিয়ে সরকার গঠন করাতে পারে, যা সংখ্যাগতভাবে সহজ হলেও রাজনৈতিকভাবে খুবই অস্বাভাবিক, কারণ বিজয় নিজেই ডিএমকেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আক্রমণ করে আসছেন। তৃতীয়ত, এআইএডিএমকে টিভিককে সমর্থন দিতে পারে—তবে এখন পর্যন্ত সেই ধরনের কোনো রাজনৈতিক ইঙ্গিত মেলেনি এবং দলটি প্রকাশ্যে টিভিকের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নাকচ করেছে।
এদিকে টিভিকে বিজেপিকে আদর্শিকভাবে বিরোধী শক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে, ফলে এনডিএ জোটের সঙ্গে কোনো সমঝোতার পথও কার্যত বন্ধ। ফলে বিজয়ের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে তার দলের রাজনৈতিক অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখা। সব মিলিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন এই সমীকরণ আগামী দিনে আরও জটিল ও নাটকীয় মোড় নিতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য