![]()
বাজারে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাজার তদারকি জোরদার করে মূল্য নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকদের কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, উৎপাদক পর্যায় ও খুচরা বাজারের দামের মধ্যে বিশেষ করে কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। এছাড়া গত পাঁচ দশকে দেশের বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত কোনো কাঠামো গড়ে ওঠেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটি এআইভিত্তিক (AI-generated) মডেলের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বাজার পর্যবেক্ষণ সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, তেল, চিনি ও অন্যান্য আমদানিনির্ভর পণ্যের জন্য কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগারের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা যাতে সংকটের সময় বাজার কয়েকজন ব্যবসায়ীর ওপর নির্ভরশীল না থাকে। এক থেকে দুই মাসের প্রয়োজনীয় মজুত থাকলে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সহজ হবে বলেও তিনি মত দেন।
বাজারে অস্থিরতার জন্য শুধু সিন্ডিকেটকে দায়ী না করে তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থার অসামঞ্জস্য ও অব্যবস্থাপনাও অনেক সময় মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে সংরক্ষণাগার নির্মাণ, কৌশলগত রিজার্ভ এবং সমন্বিত বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জানান, সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বস্ত্র ও পাটকলগুলো ধাপে ধাপে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে সরকারি মালিকানায় থাকা ২৫টি বস্ত্রকল ও ২৫টি পাটকলের কিছু ইতোমধ্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং বাকি মিলগুলোও দ্রুত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পাঠকের মন্তব্য