![]()
মোহাম্মদ ইকবাল জামাল
এক দশকের অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর অবশেষে রাশিয়ার প্রত্যক্ষ আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে পা রাখতে যাচ্ছে। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং হয়েছে আজ ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার। এদিন দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ব্যক্তিগণ প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন। এর ফলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সংকটের একটা দীর্ঘ মেয়াদী সমাধানের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো। আগামী আগস্ট মাসে দুইটি ইউনিটের প্রথমটি থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে এর যাত্রা শুরু হবে যা আগামী মার্চ মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট সম্পূর্ণ সক্ষমতার ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আগামী ১ বছরের মধ্যে অর্থাৎ এপ্রিল ২০২৭ এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটেরও উৎপাদন প্রক্রিয়ার কার্যক্রম শুরু হবে বলে সরকার আশা প্রকাশ করছে।
এ প্রসঙ্গে আমার একটা কথা মনে পড়লো। আমাদের দেশের প্রোথিত যশা অর্থনীতিবিদ, বহু মাতৃক সামাজিক ব্যবসার প্রবর্তক, গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ টেলিকম সহ বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক, তিন শূন্যের রূপকার, নোবেল জয়ী, অর্থাৎ জোবরা থেকে অসলো জয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের সবচেয়ে বড় দূর্নীতি আবিষ্কার করেছিল। সাড়ে ১২ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারই নাকি দুর্নীতি হয়েছে। বিদেশি অর্থায়নের (জি টু জি) এতো বড় একটা প্রকল্পের বিশাল দূর্নীতির বিষয়টি জেনে আমি বেশ পুলকিত হয়েছিলাম যে এটাও কি সম্ভব। হাসিনা সরকার করছেও। সেই সাথে একটা আশঙ্কাও তৈরী হলো যে উনি না আবার দুর্নীতির এই প্রকল্পগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু রাশিয়া এ দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখায়। বলে সাড়ে ১২ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার দুর্নীতির অভিযোগ অনেক বড় অপবাদ, আর সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার অনেক বড় অংকের অর্থ। ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস কি কারণে শেষে চুপসে গেলেন, আর কিছু শোনা গেল না, আমিও হতাশ হলাম যে দুর্নীতিটা শেষ পর্যন্ত উদঘাটিত হলো না। আবার কিছুটা স্বস্তিও বটে, উনি আর এটা নিয়ে কথা বলেনি, রূপপুর ধ্বংসের নির্দেশও দেয়নি। কেননা উনি অনেক কিছু ফ্যাসিস্ট তকমা দিয়ে ধ্বংস করেছে যার অনেক কিছু ছিল এদেশের মুক্তিযুদ্ধের, স্বাধীনতার ও ইতিহাসের অংশ (যেখানে উনার কোন অবদান ছিল না)। তাতে উনার অনুভূতিতে কিছু হয়েছে কিনা জানি না, অনেক মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। কেননা ফেসিস্টদের নিদর্শনও প্রমাণ হিসাবে রেখে দিতে হয়। আর কর্ণফুলী টানেল (প্রকৃত অপচয়ের মেগা অবকাঠামো), পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ভেঙে না ফেলুক, দুর্নীতির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আবার ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় কিনা আমার সে ভয় কাজ করছিল, কেননা উনি সবই পারে। আল্লাহ্ বাঁচাইছে যে উনি শেষ পর্যন্ত তেমন সাহস দেখায়নি। দূর্নীতি হোক আর না হোক, এগুলো জনগণের টাকায় নির্মিত। যতটুকু হয়েছে সেটা জনগণের সম্পদ। অর্থ লোপাটকারীরা শাস্তি পাবে, স্থাপনা ধ্বংস করা যাবে না। শেষ পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আলোর মুখ দেখেছে এটা খুশির খবর। এই বিশাল প্রকল্পের সাথে যারা যুক্ত ছিলেন সবাইকে ধন্যবাদ।