![]()
চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ-এর অধিবেশনে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং দেশের স্বার্থে এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সমাধান খোঁজা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই যৌথ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
⚖️ কীভাবে গঠিত হবে কমিটি
সরকারি দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি দল মনোনীত করা হয়েছে। বিরোধী দল তাদের পাঁচজন প্রতিনিধি মনোনীত করলেই ১০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্পন্ন হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে মনোনীত সদস্যরা হলেন—
- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ
- প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
- সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন
- সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু
- সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত
প্রধানমন্ত্রী জানান, কমিটি যদি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত কোনো প্রস্তাব দেয়, সরকার তা বিবেচনা করে বাস্তবায়ন করবে।
????️ বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া
বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সংসদই জাতীয় সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। তিনি দ্রুত বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের নাম দেওয়ার আশ্বাস দেন।
????️ স্পিকারের মতামত
অধিবেশন পরিচালনাকারী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ কমিটির একজন সভাপতি নির্ধারণের বিষয়টি উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি মন্ত্রীকে সভাপতি করার প্রস্তাব দেন।
স্পিকার বলেন, সরকার ও বিরোধী দল এভাবে একসঙ্গে কাজ করলে দেশের জন্য ইতিবাচক ফল আসবে এবং জনগণের মধ্যে আশা তৈরি হবে।
???? মানবিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলছে—লোডশেডিং, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ উদ্যোগ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক সমন্বয় ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হলে তা জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাঠকের মন্তব্য