![]()
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন শুরু হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ-এ। প্রথম দফায় ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৫২টিতে ভোটগ্রহণ হচ্ছে, যেখানে ১,৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং তৃণমূল কংগ্রেস-এর মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র দল বিজেপি প্রথমবারের মতো রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চায়, আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে লড়ছেন।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক
নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ পড়া বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন বলছে, তালিকা ‘পরিষ্কার’ করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধীরা অভিযোগ করছে, এতে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
নজিরবিহীন নিরাপত্তা
নির্বাচনী সহিংসতার ইতিহাস থাকায় এবার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যেমন মোটরসাইকেল চলাচলে সীমাবদ্ধতা ও মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোট
প্রথম দফার ভোট মূলত উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হচ্ছে, যেখানে মুসলিম, আদিবাসী ও নিম্নবর্ণের হিন্দু ভোটারের সংখ্যা বেশি।
তামিলনাড়ুতেও উত্তেজনা
পাশাপাশি তামিলনাড়ু-তে ২৩৪টি আসনে ভোট হচ্ছে। সেখানে দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গম (ডিএমকে) ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গম (এআইএডিএমকে)-এর পাশাপাশি অভিনেতা বিজয়-এর নতুন দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনগুলো শুধু রাজ্য সরকারের ভাগ্য নির্ধারণই নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বাধীন সরকারের জনপ্রিয়তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য