![]()
৮৫ বছর বয়সী রোকেয়া বেগম—বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট Ziaur Rahman-এর পৈতৃক ভিটা আগলে রেখেছেন তিনি। বহুদিন পর প্রিয় সন্তানের ফিরে আসার খবরে তাঁর চোখে আনন্দাশ্রু, মুখে প্রশান্তির হাসি। আর এবার সেই ফেরা আরও বিশেষ—দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ঘরে ফিরেছেন Tarique Rahman।
রোকেয়া বেগম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “হামাকের ছোল প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসিচ্চে—এইটা হামার জন্য বড় সুখের খবর। এই আনন্দ কথায় প্রকাশ করা যায় না।”
স্থানীয় যুবক মহব্বত মণ্ডলও একই উচ্ছ্বাসের কথা জানান। তাঁর ভাষায়, “ছোটবেলায় শুধু গল্প শুনেছি তাঁকে নিয়ে। এবার সামনাসামনি দেখব—ভাবতেই ভালো লাগছে।”
২০০৬ সালের পর প্রায় দুই দশক পর বগুড়ার বাগবাড়ীর সেই স্মৃতিবিজড়িত আদি নিবাসে ফিরলেন তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর নিজ জেলায় প্রথম সফর।
পারিবারিক ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, জিয়াউর রহমানের পূর্বপুরুষদের মূল বাড়ি ছিল মহিষাবান গ্রামে। তাঁর দাদা কামাল উদ্দিন মণ্ডল বাগবাড়ীতে এসে জমিদার পরিবারের মেয়ে মিছিরুন নেছাকে বিয়ে করেন। পৈতৃকসূত্রে পাওয়া বিপুল সম্পত্তির কারণে সেখানেই গড়ে ওঠে তাদের স্থায়ী বসতি।
এই পরিবারেই জন্ম নেন জিয়াউর রহমান, যিনি পরে দেশের রাষ্ট্রপতি হন। ১৮৯৫ সালে নির্মিত তাদের একতলা পাকা বাড়িটি বর্তমানে ‘জিয়াবাড়ি’ নামে পরিচিত। পরে ২০০১ সালে এটি দোতলা করা হয়। অতীতে গ্রামে এলে এখানেই অবস্থান করতেন তারেক রহমান।
২০০৬ সালের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে নানা প্রতিকূলতা ও নির্বাসন কাটিয়ে অবশেষে আবার পৈতৃক ভিটায় ফিরে এলেন তিনি—এবার শুধু দলীয় প্রধান নয়, দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।
তাঁর আগমনের খবরে বগুড়া শহর থেকে গ্রামাঞ্চল—সবখানেই উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন দূরে থাকলেও বগুড়ার সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হয়নি।
শৈশবে ১৯৮১ সালে পিতাকে হারানোর পর ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। Bangladesh Nationalist Party-এর রাজনীতিতে তাঁর পথচলা শুরু বগুড়ার মাটিতেই। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি গাবতলী থানা বিএনপির সদস্য হন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বগুড়ায় এলেই তিনি বাগবাড়ীতে যেতেন এবং প্রবাসে থাকাকালেও এলাকার মানুষের খোঁজখবর রাখতেন।
দীর্ঘ ২০ বছর পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে জেলাজুড়ে। বগুড়াকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী স্থানীয়রা। পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার ঘোষণা, ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম চালু, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং জনসভাসহ নানা কর্মসূচি রয়েছে তাঁর সফরে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বগুড়ার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বগুড়াবাসীর কাছে শুধু রাজনৈতিক সফর নয়—এটি আবেগ, স্মৃতি আর ভবিষ্যতের প্রত্যাশার এক মিলনমেলা।
পাঠকের মন্তব্য