![]()
সরকারি সেবা আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বাড়াতে প্রায় ৫০ হাজার কর্মীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দুবাই।
গালফভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এআই ওয়ার্কফোর্স ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম’ নামে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে ডিজিটাল দুবাই, দুবাই গভর্নমেন্ট হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট এবং দুবাই ফিউচার ফাউন্ডেশন-এর অধীন দুবাই সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।
কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সেবা প্রদান এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে এআইয়ের ব্যবহার আরও বাড়বে—এই বাস্তবতায় সরকারি কর্মীদের প্রস্তুত করতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
স্মার্ট ও দ্রুত সেবায় জোর
এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের এআই টুল ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা হবে, যাতে তারা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সরকারি সেবা প্রদান করতে পারেন। লক্ষ্য হচ্ছে, এআইকে কেবল প্রযুক্তিগত ধারণা হিসেবে নয়, বরং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের একটি ব্যবহারিক অংশে পরিণত করা।
কর্মসূচিতে সিনিয়র কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ কাঠামো রাখা হয়েছে।
ডিজিটাল দুবাইয়ের মহাপরিচালক হামাদ ওবায়েদ আল মানসুরি বলেন, এই উদ্যোগ সরকারি কর্মীদের কাজের ধরনে বড় পরিবর্তন আনবে। এতে তারা শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং নাগরিককেন্দ্রিক স্মার্ট সেবা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সব স্তরে দক্ষতা উন্নয়ন
দুবাই গভর্নমেন্ট হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-এর মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আলী বিন জায়েদ আল ফালাসি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন দুবাইয়ের উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ভবিষ্যৎ-উপযোগী দক্ষতা গড়ে তুলবে এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে।
এদিকে দুবাই ফিউচার ফাউন্ডেশন-এর প্রধান নির্বাহী খালফান বেলহুল বলেন, সরকারি খাতে এআই ব্যবহারের বিস্তারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে প্রযুক্তিকে বাস্তব সেবায় রূপান্তরের সক্ষমতা বাড়বে।
পদভিত্তিক প্রশিক্ষণ কাঠামো
কর্মসূচিটি দায়িত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়েছে—
- সিনিয়র কর্মকর্তারা এআই কৌশল ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেবেন
- চিফ এআই অফিসাররা নীতিমালা বাস্তবায়নে কাজ করবেন
- পণ্য ও সেবা সংশ্লিষ্টরা এআইভিত্তিক সমাধান তৈরি ও মূল্যায়ন শিখবেন
- ম্যানেজাররা কাজের প্রবাহে এআই সংযুক্ত করার কৌশল জানবেন
- সাধারণ কর্মীরা এআই টুল, অটোমেশন ও প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পাবেন
ভবিষ্যৎমুখী প্রশাসনের পথে
কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি খাতে ডিজিটাল দক্ষতা বাড়বে, সেবার গতি বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে উদ্ভাবন আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও নাগরিকবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।
পাঠকের মন্তব্য