![]()
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ বৈঠকে বসেছেন বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে পুরো অঞ্চলকে সহিংসতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
এএফপির বরাতে জানা যায়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ইরানি প্রতিনিধি দল তাদের মার্কিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করে। পরে শরিফ বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভান্স-এর সঙ্গেও।
ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। মার্কিন দলে ভান্সের সঙ্গে রয়েছেন হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, উভয় পক্ষের গঠনমূলক অংশগ্রহণের অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়ে শরিফ আশা প্রকাশ করেছেন—এই আলোচনা অঞ্চলজুড়ে স্থায়ী শান্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
তবে আলোচনার মূল ইস্যুগুলো এখনও জটিল রয়ে গেছে। ইরান বলেছে, স্থায়ী সমাধানের জন্য তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। অন্যদিকে মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে, এসব বিষয় বর্তমান আলোচনার এজেন্ডায় নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ইতোমধ্যে কাতারে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্তের খবর অস্বীকার করেছেন, যা আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে লেবাননে ইসরাইলের চলমান হামলা, যা বিদ্যমান যুদ্ধবিরতিকে চাপের মুখে ফেলেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে।
আলোচনার আগে কালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বের অভিজ্ঞতা ‘ভঙ্গ প্রতিশ্রুতি ও ব্যর্থতায়’ পরিপূর্ণ। অন্যদিকে ভান্স সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি সদিচ্ছা দেখায় তবে যুক্তরাষ্ট্রও ইতিবাচক থাকবে, তবে অন্যথায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই আলোচনায় তার প্রধান অগ্রাধিকার হলো—ইরান যেন কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ‘মেক অর ব্রেক’ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন শাহবাজ শরিফ। বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস কাটিয়ে ওঠা না গেলে এই আলোচনা থেকে বাস্তব কোনো অগ্রগতি পাওয়া কঠিন হতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য