![]()
ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, পাইলটের খোঁজ না মেলায় যুক্তরাষ্ট্রে সৃষ্টি উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ইরানে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এটির ক্রু সদস্য বেঁচে আছেন কি না তা জানতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। রোববার দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রায়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে প্রথম এ ধরনের ঘটনা।
পেন্টাগন ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এখনও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সম্ভাব্য বেঁচে থাকা পাইলটদের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিশেষত এমন সময় যখন প্রকাশিত জরিপে দেখা যাচ্ছে সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে এই যুদ্ধে সমর্থন কম।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনাবাহিনী দুটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি: এক, বেঁচে থাকা ক্রু সদস্যদের নিরাপদে উদ্ধার করা এবং দুই, ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া যেকোনো টিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ইরানি কর্মকর্তারা নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করেছেন। ধ্বংস হওয়া বিমানটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, যদিও আগে অনেক সংবাদমাধ্যমে এফ-৩৫ বিধ্বস্ত হওয়ার গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। এফ-১৫ এ দুটি ক্রু বহন করতে পারে।
ইরানের কিছু প্রদেশের কর্মকর্তা বলেছেন, যিনি ক্রুদের ধরবেন বা হত্যা করবেন, তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হবে।
ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তারা ইরানের অবকাঠামো ও লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র ধ্বংস করতে সক্ষম। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছে। তবে কেউ এখনো বন্দী হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরান এখনও বড় পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা রাখে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তারা গত সপ্তাহ পর্যন্ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক ক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করতে পেরেছে, আর বাকি কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে থাকার কারণে ‘সম্ভবত’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরই আমেরিকানদের মধ্যে সমর্থন কমে গেছে। রয়টার্স/আইপসোস জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করেন, তাদের দেশকে দ্রুত এই যুদ্ধে অংশ কমাতে হবে, এমনকি নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত না হলেও যুদ্ধ শেষ করা উচিত।
পাঠকের মন্তব্য