![]()
মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। তার এই বক্তব্যের পরপরই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম একপর্যায়ে ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯.৭৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে WTI crude oil-এর দামও ১১ শতাংশ বেড়ে ১১১.৬০ ডলারে উঠে যায়, যা গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।
যদিও পরে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে, যখন হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতার প্রচেষ্টার খবর প্রকাশিত হয়। এতে ব্রেন্টের দাম কিছুটা কমে ১০৬ ডলারের আশপাশে স্থিতিশীল হয়।
জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। এশিয়ার প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে জাপানের নিক্কেই, চীনের CSI 300 এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকে বড় পতন দেখা গেছে।
ইউরোপের বাজারেও নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। যদিও যুক্তরাজ্যের FTSE 100 সূচক শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ায়, মূলত তেল কোম্পানি BP ও Shell-এর শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ স্পষ্ট। জ্বালানির দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বন্ড মার্কেটেও। যুক্তরাজ্যের ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদের হার প্রায় ৪.৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষক ক্রিস বুশ্যাম্পের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যে যুদ্ধের অবসানের কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, বাজার এখন সম্ভাব্য তেল সরবরাহ সংকট ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির হিসাব কষতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি এই সংকট দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আর্থিক বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য