![]()
মিয়ানমারের সামরিক নেতা মিন অং লাইং আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট পদে বসার আগে তিনি সেনাপ্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত একটি নামমাত্র বেসামরিক রূপান্তর, কারণ ক্ষমতার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ এখনো তার হাতেই থাকবে।
২০২১ সালের মিয়ানমার সামরিক অভ্যুত্থান ২০২১-এর মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর মিন অং লাইং এক বছরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পাঁচ বছর সময় লেগেছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি সামরিক সমর্থিত দল ইউএসডিপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ফলে নির্বাচনটি কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন সরকারেও সামরিক প্রভাব বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি পরামর্শদাতা পরিষদ গঠন করা হয়েছে, যা বেসামরিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
অন্যদিকে, ২০২০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী অং সান সু চি-এর নেতৃত্বাধীন সরকার উৎখাতের পর দেশজুড়ে যে গণবিক্ষোভ শুরু হয়, তা দমন করতে গিয়ে পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।
গত পাঁচ বছরে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
বর্তমানে প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো দেশের প্রায় ৯০টি শহরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেনাবাহিনী অনেক এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমান হামলা ও ‘পোড়ামাটি’ কৌশল প্রয়োগ করছে, যার ফলে বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অং সান সু চি-কে মুক্তি দিয়ে সংলাপের পথ তৈরি করা যেতে পারে। তবে সামরিক নেতৃত্ব এ বিষয়ে এখনো কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়নি।