![]()
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত শুধু ওই অঞ্চলের জন্য নয়—বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ট্রেড আউটলুক অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস’ প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে যে, এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব বাণিজ্য ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হতে পারে।
বাণিজ্য ও জিডিপিতে প্রভাব
ডব্লিউটিও জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজির দাম বাড়লে বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৩ শতাংশ পয়েন্ট কমতে পারে এবং বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পেতে পারে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ক্ষেত্রে ক্ষতি আরও গুরুতর—প্রায় ১ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি কমতে পারে।
২০২৫ সালে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধির পর, ২০২৬ সালে বিশ্ব বাণিজ্য ধীর হবে। পণ্যের বাণিজ্য ২০২৫ সালে ৪.৬ শতাংশ বাড়লেও, ২০২৬ সালে তা কমে ১.৯ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে পুনরায় ২.৬ শতাংশ উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তায় ঝুঁকি
ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক নগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা জানান, উচ্চ প্রযুক্তি পণ্য ও ডিজিটাল সেবা এখনো বাণিজ্যকে কিছুটা স্থিতিশীল রাখলেও, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এই পূর্বাভাসকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
তিনি বলেন, “জ্বালানির দাম দীর্ঘমেয়াদে বাড়লে খাদ্য নিরাপত্তা, ভোক্তা ব্যয় এবং ব্যবসার খরচও বাড়বে। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, সারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ফসলের উৎপাদন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।”
সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে কৃষকরা সারের ব্যবহার কমিয়ে দিতে পারেন এবং কম উপকরণনির্ভর ফসল চাষের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হতে পারেন। ফলে খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হবে এবং বাজারে দাম বৃদ্ধি পাবে।
সম্ভাব্য সমাধান ও নীতি
ডব্লিউটিও বলছে, খাদ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে এবং বাণিজ্যের পথ খোলা রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সংঘাত যদি দ্রুত শেষ হয়, তবে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি এবং বাণিজ্যের ওপর চাপ আরও বাড়াবে।
সংস্থার মতে, সঠিক নীতি গ্রহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার জোরদারকরণ করলে এই প্রভাব কমানো সম্ভব। বিশেষ করে জ্বালানি, সারের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা দরকার।
মানবিক দিক: সাধারণ মানুষ ও কৃষকের ক্ষতি
বিশ্ব বাণিজ্যের ধীরগতি ও খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন শুধু অর্থনীতিতে নয়—মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরও সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
-
কৃষকরা কম সারের ব্যবহার করছেন
-
খাদ্য উৎপাদন কমতে পারে
-
বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে পারে
-
ক্ষুধার ঝুঁকি বাড়ছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে
এ পরিস্থিতি মানবিক এবং অর্থনৈতিক সংকটকে একসঙ্গে বৃদ্ধি করছে।
সংক্ষিপ্ত সংবাদ শিরোনাম
-
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক বাণিজ্যে চাপ বাড়াচ্ছে
-
খাদ্য নিরাপত্তার ওপর গুরুতর প্রভাব: ডব্লিউটিও
-
জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি কৃষি ও ভোক্তা খরচ বাড়াবে
-
বিশ্ব বাণিজ্য ২০২৬ সালে ধীর হতে পারে
-
সরবরাহ ব্যবস্থায় দেরি = খাদ্য সংকট
পাঠকের মন্তব্য