
ঈদ সামনে—রাজধানীজুড়ে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার উৎসব
ঈদুল ফিতরের আর মাত্র দুই-তিন দিন বাকি। প্রিয়জনদের জন্য নতুন পোশাক, জুতো ও প্রসাধনী কেনা প্রায় শেষ হলেও এখনো চলছে শেষ মুহূর্তের খুচরো কেনাকাটা। রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাতজুড়ে দেখা যাচ্ছে উপচেপড়া ভিড়।
রাজধানীর নিউ মার্কেট, মিরপুর, গুলিস্তান, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকাগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বিরতিহীন বেচাকেনা। বড় শোরুমের পাশাপাশি ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতেও তিল ধারণের জায়গা নেই।
পোশাক কেনা শেষ করে এখন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ভিড় করছেন ঈদের নামাজের অনুষঙ্গ কিনতে। টুপি, আতর ও জায়নামাজের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের চাপ সবচেয়ে বেশি। বাজারে সাধারণ টুপি ৬০-৮০ টাকায় পাওয়া গেলেও মানভেদে দেশি টুপি ১৫০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি টুপির দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। বিক্রেতারা জানান, চাঁদ রাত পর্যন্ত এই বিক্রি অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, সেমাই ও চিনির দোকানেও বেড়েছে ভিড়। খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজিপ্রতি ২০০-২৫০ টাকা, প্যাকেটজাত লাচ্ছা ৫০-৭০ টাকা এবং বাংলা সেমাই ৮০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা দরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের মাঝামাঝি থেকেই চাহিদা বাড়লেও শেষ কয়েক দিনে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে।
তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। বিশেষ করে মিরপুর ও ফার্মগেট এলাকায় ফুটপাতের দোকান বেড়ে যাওয়ায় সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়লেও কেনাকাটার আগ্রহে কোনো কমতি নেই।
ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। কেউ অভিযোগ করছেন, ঈদকে সামনে রেখে অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। আবার কেউ ভিড় এড়াতে দেরিতে বের হয়েও পড়েছেন বিপাকে।
সব মিলিয়ে গরম, রোজা ও যানজট উপেক্ষা করে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ঢাকাবাসী। এই কেনাকাটার আমেজ চলবে চাঁদ রাত পর্যন্ত।
পাঠকের মন্তব্য