ইবি রিপোর্ট
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে এখনো নানা বাধা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান, পণ্যের বাজার তৈরি এবং আধুনিক ব্যবসায়িক দক্ষতা অর্জন অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বাধা কাটিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের সামনে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীতে আয়োজন করা হয়েছে জাতীয় এসএমই নারী উদ্যোক্তা সামিট ও পণ্য মেলা।
গত ৫ নভেম্বর রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের প্রাঙ্গণে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন। এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সামিটে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৬০ জন নারী উদ্যোক্তা। নিজেদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির পাশাপাশি ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ খুঁজছেন তাঁরা।
মেলায় স্থান পেয়েছে বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে পোশাক, হস্তশিল্প, পাট ও চামড়াজাত সামগ্রী, খাদ্যপণ্য, প্রসাধনী এবং গৃহসজ্জার উপকরণ। উদ্যোক্তারা সরাসরি ক্রেতাদের কাছে তাঁদের পণ্য তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে নতুন বাজার খুঁজে পাওয়া এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা।
আয়োজনের লক্ষ্য কেবল পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য ক্রেতা, সুপারশপ, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেসের যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা তাঁদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সামিটে ব্যবসার অর্থায়ন, ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সেশনের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আলোচনায় উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ সহায়তা এবং বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুন নাসের খান জানান, নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক ঋণপ্রাপ্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করবে এসএমই ফাউন্ডেশন।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। এসএমই ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটির বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধা পেয়েছেন প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। তাঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী।
তিন দিনব্যাপী এই সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠান ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আটজন নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা দেওয়ার কর্মসূচি রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং পণ্য বাজারজাতের সুযোগ বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনীতিতে তাঁদের অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হবে।
পাঠকের মন্তব্য